সিরাজদীখানে ইছামতির তীরে সাধুসঙ্গ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার দোসরপাড়া টেকেরহাট বটতলার ইছামতির তীরে পদ্মহেম ধামে হয়ে গেছে ২০ বারের মতো সাধুসঙ্গ। মঙ্গলবার দিনগত রাতভর চলে এ লালন সাইজীর বাউল গানের এ আসর। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে সাধুসঙ্গের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। পদ্মহেম ধামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবির হোসেনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ।
এদিকে, সন্ধ্যায় সাধুসঙ্গের শুরু হওয়ার আগে থেকেই দোসরপাড়া টেকেরহাট বটতলায় লালন ভক্তদের আগমন শুরু হতে থাকে। জেলা সদর, শ্রীনগর ও সিরাজদীখানের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছুটে আসেন ভক্তরা। রাত যত বাড়ে ভক্তকুলের ভীড় ততো বাড়তে থাকে। “গুরু দোহাই তোমার মন লওগো সুপথে, তোমার দয়ায় বিনে চরণ সাধি কিমতে”-বাউলের এ গাননের সুরে সুরে সাধুসঙ্গের প্রহর শুরু হয়।
এরপর “সুভাব দেও গুরু আমার মনে তোমার চরণ যেনো ভুলিনে, পার করো হে দয়াল চাঁদ আমারে” কিংবা ধন্য ধন্য বলি তারে” এবং “আমায় রাখিলেন সাই কুপজল করে আন্ধেলা পুকুরে”-লালন সাঁইজির এমন বানী আর গানের সুরে জমে উঠে সাধুসঙ্গ। কুষ্টিয়ার দরবেশ নহীর ফকির, মহরম শাহ, শামসুল ফকির, ফরিদপুর থেকে সাধু-বাউল পাগল বাবলু, দোতারাবাদক ভুট্টা শাহর, সুকুমার ঘোল, বংশীবাদক বজলু শাহ ও তবলা সাঈদ ফকিকের মতো বিখ্যাত সাধকেরা লালনের পাগল করা সুর মেলে ধরেন। তাদের গানে মুগ্ধ হন লালন ভক্তরা।
দোসরপাড়া টেকেরহাট বটতলার সাধুসঙ্গে ছুটে এসেছেন জেলা সদরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার মিনহাজুল ইসলাম। বাউলের সুরে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, যখনই সাধুসঙ্গ হয় তখনই এখানে ছুটে আসি।এ ত ভাবের গান, হৃদয় ছোয়া গান সাধু সঙ্গ ছাড়া আর কোথাও শুনতে পাই না। হৃদয়ে নাড়া দেয় বাউলের বানী।
পদ্মহেম ধামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবির হোসেন বলেন, লালন সাঁইজি চেয়েছিলেন, মানুষের মনের হিংসা না থাকুক। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠুক। পৃথিবীটা ভালবাসায় ভরে থাকুক। তাঁর বাণীতে,গানে গানে সেগুলোই তিনি বলেছেন। তাই লালন সাঁইজির সব বাণী ও দর্শন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ সাধুসঙ্গ। তিনি আরো বলেন, আমরা মানবিক পৃথিবী গড়তে চাই। যেখানে মানুষে মানুষে কোন ভেদাবেদ, উঁচু-নিচু পার্থক্য থাকবে না। আমাদের এ আয়োজন চলমান থাকবে।#
