খুঁজুন
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২
আজঃ সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
শিরোনাম:
আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায় ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী মোল্লাকান্দি বিএনপির বিরোধে তুহিনের পর নিহত হল আরিফ বিসিআর সম্মাননা পেলেন মুন্সীগঞ্জের ডালিম রহমান বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধে  মুন্সীগঞ্জে গুলিতে তুহিন নিহত মুন্সীগঞ্জে ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিএনপির লিফলেট বিতরণ মুন্সীগঞ্জে ২০ লাখ ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ  মুন্সীগঞ্জে শ্রমিক লীগ কর্মী হত্যার আসামী গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জে তিন কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রির লক্ষ্য  সাংবাদিক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিমের জন্মদিন উদযাপন মুন্সীগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৩৮৪টি পদই শূন্য মেঘনায় নিখোঁজ শরীফের মরদেহ উদ্ধার বিএজেএফ’র আন্তর্জাতিক সম্পাদক হলেন মুন্সীগঞ্জের মেহেদী আল আমিন বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বির্তক প্রতিযোগিতা হয়ে উঠে প্রাণবন্ত মুন্সীগঞ্জ ২০টি পূজা মণ্ডপে অনুদান দিল বিএনপি নেতা রতন পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের ম্যুরালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে চিত্রকর্ম টঙ্গীবাড়িতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করন ও আলোচনা সভা মুন্সীগঞ্জে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে স্ত্রীকে তালাক যুবদল নেতার মেঘনা নদীতে ভাসছিল সাংবাদিক  বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ  সিরাজদিখানের আ’লীগ নেতা আমজাদ ঢাকায় গ্রেপ্তার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা ও  মুন্সীগঞ্জে শহীদ হয় ১৬ জন মুন্সীগঞ্জে “জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ”  উদ্বোধন করলেন দুই উপদেষ্টা  ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মুন্সীগঞ্জ শহরে দুই দফা উচ্ছেদ  অভিযান মুন্সীগঞ্জের ৩ শহীদ স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ গোপালগঞ্জের মতো আরও ১০ জায়গায় হামলা  চালালেও আমাদের দমন করা যাবে না  মুন্সীগঞ্জে ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান  দিবস উদযাপনে প্রতীকী ম্যারাথন চরকেওয়ারে শিক্ষার্থীদের মাঝে  গাছের চারা বিতরন ও বৃক্ষরোপণ সিরাজদীখানে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যে ভরাট হচ্ছে কৃষি জমি  ইছামতীর তীরে বাঁধ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে, রক্ষায় মানববন্ধন গ্রামবাসীর

মেঘনা নদীতে ভাসছিল সাংবাদিক  বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মেঘনা নদীতে ভাসছিল সাংবাদিক  বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ 
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ
মেঘনা নদীতে ভাসছিল। খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার চরবলাকী এলাকার মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কলাগাছিয়া নৌ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে সন্ধ্যায় তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে উদ্ধারের পট ছবি দেখে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের বলে মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা নিশ্চিত করেছে বলে জানান কলাগাছিয়া নৌ ফাড়ির ইনচার্জ মো সালেহ আহমেদ পাঠান।
অন্যদিকে রমনা থানা পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের ছোট ভাই ভাই চিররঞ্জন সরকার ও ছেলে ঋতু সরকার শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পৌঁছে উদ্ধার করা মরদেহটি সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের বলে নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে বিভুরঞ্জন সরকারের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার সমকালকে বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটা আমার দাদা বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় অফিসে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় সে। পরে বৌদি দাদাকে ফোন দেয়। ফোন বন্ধ পেয়ে অফিসে ফোন দেয়। পরে জানতে পারে অফিসেও জায়নি। এরপর আমরা বিভিন্ন জায়গায খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ওইদিন রাতেই  রমনা থানা একটি মিসিং ডাইরি করি। তিনি বলেন, তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে বাসায়ই রেখে বের হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আজ শুক্রবার বিকেলে রমনা থানার ওসির মাধ্যমে জানতে পাড়ি, মেঘনা নদী থেকে একজনের  লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখে ধারনা করি, এই  মরদেহটি আমার দাদার। এরপর মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এসে এখন আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি, এটা আমার দাদা বিভুরঞ্জনের লাশ।
ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার সমকালকে আরও বলেন,  এমন ঘটনা কি ভাবে ঘটলো। এটা আত্মহত্যা না কি পূর্বপরিকল্পিত খুন তার কিছুই আমরা জানি না। আমি শুধু এটাই বলবো, তার মতে এমন পরিনতি যাতে আর কারো না হয়।
ছেলে ঋতু সরকার সমকালকে বলেন  বৃহস্পতিবার সকালে মাকে বলে গিয়েছিল বিকেল ৫টায় বাড়ি ফিরবে। প্রতিদিন বিকেলের দিকেই বাড়ি ফিরে। ওইদিন ফোন বাড়িতে রেখেছিল। মাঝে মধ্যে বাড়িতে ফোন রেখেই যান। তিনি বলেন, খোলা চিঠির ব্যাপারের আজই জানতে পারি। এবিষয় আমাদের কারো জানাছিল না।
কলাগাছিয়া নৌ ফাড়ির ইনচার্জ মো সালেহ আহমেদ পাঠান সমকালকে রাত ৭টার দিকে বলেন, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে খবর আসে কলাগাছিয়া সীমানা ঘেঁষা গজারিয়ার চরবলাকী এলাকার মেঘনা নদীতে ভাসমান একটি লাশ ভাসছে। এ খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপুড় হয়ে ভাসমান অবস্থায় থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, এরপর সাংবাদিকদের দেখানো ছবির সঙ্গে মরদেহের চেহারায় মিল পাওয়া যায়। এতে বিষয়টি ঢাকার রমনা থানা পুলিশকে জানানো হয়। রমবা থানা পুলিশ তার পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পরিবারের স্বজনরা মর্গে এসে নিশ্চিত করলে আমরা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।
কলাগাছিয়া নৌ ফাড়ির ইনচার্জ মো সালেহ আহমেদ পাঠান বলেন, উদ্ধারের সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সে উপুড় হয়ে মেঘনা নদীতে ভাসছিল। তার গলায় পরিহিত চশমাও ঝুলছিল।
তিনি বলেন, যেহেতু উদ্ধারস্থল মুন্সীগঞ্জের চরবলাকী গ্রাম ঘেঁষা মেঘনা নদী, তাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে। খবর পেয়েছি, তার স্বজনরা ঢাকা থেকে রওনা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকার তার কর্মস্থল বনশ্রীর আজকের পত্রিকার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে পড়ে। কোথাও তাঁর কোনো খোঁজ মিলছে না। এ বিষয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম বলেন, বিভুরঞ্জন সরকারের ছেলে ঋত সরকার বৃহস্পতিবার রাতে একটি জিডি করেছেন। মোবাইল ফোন সঙ্গে না নেওয়ায় প্রযুক্তিগতভাবে তাঁর সর্বশেষ অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে। এগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁর গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে অন্যান্য সূত্র থেকে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থল বনশ্রীর আজকের পত্রিকা কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হন। যদিও পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তিনি সেখানে যাননি। তিনি মোবাইল ফোনটিও বাসায় ফেলে গেছেন। পরিবার সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে খোঁজ নিয়েছে। তবে তাঁর সন্ধান মেলেনি। গত ১৬ আগস্ট থেকে বিভুরঞ্জন সরকার ৭ দিনের ছুটিতে ছিল বলে আজকের পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে।
বিভুরঞ্জন সরকারের ভাই চিররঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে লেখেন, ‌আমার দাদা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অন্যান্য দিনের মতো অফিস (আজকের পত্রিকা) যাবেন বলে বাসা থেকে বের হন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি অফিসে যাননি। পরিচিত পরিমণ্ডলের কোথাও যাননি। আজ কেউ তাঁকে দেখেননি। রাত ১টা পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি। হাসপাতাল-পার্ক কোথাও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি মোবাইল ফোন বাসায় রেখে গেছেন। রাতে রমনা থানায় জিডি করা হয়েছে। তার জন্য আমরা পরিবারের সবাই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া বিভুরঞ্জন সরকার ষাটের দশকের শেষদিকে স্কুল ছাত্র থাকাকালেই দৈনিক আজাদ-এ মফস্বল সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দৈনিক মাতৃভূমি, সাপ্তাহিক চলতিপত্র এবং সাপ্তাহিক মৃদুভাষণ-এ গুরুত্বপূর্ণ পদে ( সম্পাদক) কাজ করেছেন।
আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সাপ্তাহিক যায়যায়দিন-এ ‘তারিখ ইব্রাহিম ছদ্মনামে তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী লেখা ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায়

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায়

শৈশবে ডাকনাম ছিল পুতুল। বিয়ের পর খালেদা খানমের সঙ্গে যুক্ত হয় স্বামীর নামের একাংশ। দিনাজপুর ও ফেনীতে বেড়ে ওঠা সেই পুতুল একসময় দেশে-বিদেশে পরিচিত হন খালেদা জিয়া নামে।

জীবনের ৭৯ বসন্তে খালেদা খানমের খালেদা জিয়া হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল শেষ চার দশক। যেটির শুরু হয় ১৯৮১ সালে। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও স্বামী জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে খালেদা জিয়া ছিলেন ঘোর অনাগ্রহী। কিন্তু সাধারণ এই গৃহবধূকে রাজনীতিতে টেনে আনে অকাল বৈধব্যের নিয়তি।

তখনকার উথালপাথাল রাজনীতির মঞ্চেও খালেদা জিয়া টিকে যান জনতার সমর্থনে। সামরিক শাসকের প্রলোভনে যখন সহযোদ্ধারা একে একে ছেড়ে যাচ্ছিল, তখনও গণতন্ত্রের পক্ষে শির উন্নত রেখে সমর্থকদের চোখে হয়ে ওঠেন আপসহীন। প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি থেকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েও আপস করেননি। জীবনের শেষ বছরগুলোতে অশক্ত শরীরেও ছিলেন দৃঢ়চেতা নেত্রী। তাঁর সেই সংগ্রামী জীবনকে থামিয়েছে মৃত্যু।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ইন্তেকাল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৭৯ বছরের অর্জনপূর্ণ জীবনের অবসানেও তাঁর জন্য শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ। শুধু কর্মী-সমর্থক নন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিযোগী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

পৌষের কনকনে শীতের ভোরে খালেদা জিয়ার প্রয়াণ খবর ছড়িয়ে পড়লে, থমকে যায় পুরো দেশ। হাজারো মানুষ ছুটে আসেন হাসপাতালে। ভেতরে-বাইরে ওঠে কান্নার রোল। নির্বাচনী মৌসুমেও দিনভর রাজধানীর পথঘাট ছিল তুলনামূলকভাবে ফাঁকা।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা মৃত্যু সংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর টিভি পর্দায় এসে একই খবর দেশবাসীকে জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ঘোষণা করেন বুধবার সাধারণ ছুটি এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।

৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধে সফলতা অর্জন করে মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে এবং মিত্র বাহিনীর বিমান বহরের হামলার মুখে পড়ে পাক সেনারা মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে পিছু হটে। তারা শহরের হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পে এবং ধলেশ্বরীর উত্তর প্রান্তের চরে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে ধলেশ্বরী নদী সংলগ্ন নয়াগাঁও এলাকায় মর্টার সেল নিক্ষেপ করতে করতে পাক হানাদার বাহিনী মুন্সীগঞ্জ শহর ছাড়তে শুরু করে। ১০ ডিসেম্বর রাত ৩টায় প্রচন্ড শীতের ঘন অন্ধাকারে মুন্সীগঞ্জে তাদের সুরক্ষিত দূর্গ হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা তা টের পায় ১১ ডিসেম্বর ভোরে। এরপরই জয় বাংলা স্লেগানে বিজয় মিছিলে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জবাসী।
মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন অনু সমকালকে জানান, ৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ শহরের অদূরে রতনপুর ও আশপাশ এলাকায় পাক সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পাক সেনাদের তিনটি বড় দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এ সময় পাক সেনারা ধলেশ্বরী নদীতে গানবোট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে মর্টার সেলিং করছিল। মুক্তিযোদ্ধারাও পাক সেনাদের লক্ষ্য করে মুর্হুমুহু গুলিবর্ষন করতে থাকে। এক পর্যায়ে মিত্র বাহিনীর বিমান বহরের হামলায় পাক সেনাদের তিনটি গানবোট বিধস্ত হয়। এতে পাক সেনারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পিছু হটতে শুরু করে। এ যুদ্ধে তিন পাক সেনার লাশ পাওয়া যায় এবং স্থানীয় ১৪ থেকে ১৫ জন নিরীহ মানুষ মারা যায়।তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সফলতার খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জেও পাক সেনাদের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত যুদ্ধে লিপ্ত হতে সদরের ধলাগাওঁ, রামপাল, রতনপুর, মিরকাদিম ও আশপাশে প্রায় সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা চারিদিকে অবস্থান নেয়। এরপরই ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে জয়ের মুখ দেখে মুক্তিযোদ্ধারা।

একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে নির্দেশনার পর ১০ মার্চ মুন্সীগঞ্জে সংগ্রাম পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তিপাগল ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাকবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। ২৭ মার্চ ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, জনতা সিরাজদিখান থানা পুলিশ ক্যাম্পের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ২৯ মার্চ হরগঙ্গা কলেজে তৎকালীন শহীদ মিনারে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই দিন মুন্সীগঞ্জে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় ছাত্র ও জনতা। ৩১ মার্চ পাকবাহিনী নারায়নগঞ্জে আক্রমন করলে মুন্সীগঞ্জের দামাল ছেলেরা নারায়নগঞ্জের মানুষের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ৪ ঘন্টা যুদ্ধে অংশ নেয়। ২০ এপ্রিল পাকবাহিনীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের মুক্তিপাগল জনতার যুদ্ধ হয়।

এরপর অনেক প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ৯ মে পাকবাহিনী ঢুকে পড়ে মুন্সীগঞ্জে। তারা গজারিয়ায় হানা দিয়ে ফুলদী নদীর তীরে ৩৬০ জেলে ও কৃষককে ব্রাশফায়ার করে হত্যার মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জে প্রবেশ করে। তারা বেশ কিছু বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। গজারিয়ার চর ও জেলে পল্লীর ২’শ নিরীহ মানুষকে হত্যা ও গনহারে নারী ধর্ষনে মেতে ওঠে। ১৪ মে শহরের অদূরে কেওয়ার চৌধুরী বাড়িতে ১৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা ও ৫০ মহিলাকে ধর্ষন করে। ধলাগাওঁ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হানা দিয়ে ১০ মহিলাকে ধর্ষন করে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জনকে ধরে নিয়ে বটগাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা অব্যাহত রাখে হানাদার বাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, মুন্সীগঞ্জের মুক্তিপাগল ছাত্র যুবক ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে জুনের শেষের দিকে মুন্সীগঞ্জে ফিরে স্থানীয় ছাত্র ও যুবককে ক্যাম্প থেকে ১৫ থেকে ২০ দিনের গেরিলা প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫শ’ তে উপনীত হয়। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ১১ আগষ্ট শ্রীনগর থানা, ১৪ আগষ্ট লৌহজং থানা দখল করে মুক্তিযোদ্ধারা। সেপ্টেম্বর মাসে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাড়ৈখালীর শিকরামপুর হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক সেনাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। নবাবগঞ্জ থেকে ৩টি গানবোট বোঝাই পাকসেনারা শিকরামপুরে পৌছলে মুক্তিযোদ্ধারা সশন্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি গানবোট নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ যুদ্ধে শতাধিক পাকসেনা নিহত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা লৌহজংয়ে গোয়ালীমান্দ্রায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক পাক সেনাকে হত্যা করে। ২৫ সেপ্টেম্বর সিরাজদিখানের সৈয়দপুর লঞ্চঘাটে যুদ্ধে ৯ পাক সেনা নিহত হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা আরও জানায়, অক্টোবর মাসে  মিরকাদিম, ধলাগাও, ও টঙ্গিবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি অপারেশন চালিয়ে সফলতা পায় মুক্তিযোদ্ধারা। ৪ নভেম্বর টঙ্গিবাড়ী থানা দখল এবং ৮ ও ১৯ নভেম্বর সিরাজদীখানে দুই দফা আক্রমনে পাকবাহিনী আত্নসমর্পন করে। এছাড়া ১৪ নভেম্বর রাতে ৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ৭টি গ্রুপে ভাগ হয়ে তুমুল যুদ্ধের পর মুন্সীগঞ্জ থানা দখলে নিয়ে ২৭টি রাইফেল লুট করে নিয়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, যুদ্ধে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গজারিয়ায় কমান্ডর নজরুল ইসলাম  পাক সেনাদের গুলিতে নিহত হন।

মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে
ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

মুন্সীগজ্ঞ সদরের ডেকরাপাড়া গ্রামে ক্রয়কৃত সোয়া ৮ শতাংশ সম্পত্তিতে ঘর উত্তোলন করতে গিয়ে হয়রানির কবলে পড়েছে সৈয়দ শেখ গং।
প্রতিবেশীর বাঁধার মুখে ঘরতো উত্তোলন করতে পারেনি উল্টো সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকিতে আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ডেকরাপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান গংদের কাছ থেকে সোয়া ৮ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন সৈয়দ শেখ ও তার ৪ ছেলে। এ খবর জানতে পেরে প্রতিবেশী রহিম শেখের দুবাই ফেরত দুই ছেলে রনি শেখ ও জনি শেখ গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করেন।

এছাড়া এই সম্পতি কেনার পর পরই রামপাল এলাকার আব্বাশ ভান্ডারী নামের এক ভূমিদস্যু
ও আলী শেখের শ্বশুর মোল্লাকান্দির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর এই সম্পত্তির উপর আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

বিল্লাল শেখ বলেন, এর মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রামপালের আব্বাস ভান্ডারী ও ডেকরাপাড়া গ্রামের আলী শেখ লোকজন নিয়ে গত ৭ নভেম্বর আমার বাবা মোঃ সৈয়দ শেখকে কৌশল করে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে নেয়। এ ঘটনার পর বিষয়টি স্বজনদের জানানো হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিবেশী নয়ন শেখ বলেন, বিল্লাল শেখ গং আনিসুর রহমানের কাছ
সোয়া ৮ শতাংশ সম্পত্তি কিনলেও কাগজপত্রে তারা ৫ শতাংশ সম্পত্তি পাবে। সোয়া ৩ শতাংশ সম্পত্তির কোনো বৈধতা না থাকায় সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করতে বলেছি। এটা সমাধান না করে ঘর তুলতে চাইলে বাঁধা দেওয়া হয়। এছাড়া সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে গত বুধবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করলেও তারা আসেনি।