খুঁজুন
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২
আজঃ সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
শিরোনাম:
আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায় ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী মোল্লাকান্দি বিএনপির বিরোধে তুহিনের পর নিহত হল আরিফ বিসিআর সম্মাননা পেলেন মুন্সীগঞ্জের ডালিম রহমান বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধে  মুন্সীগঞ্জে গুলিতে তুহিন নিহত মুন্সীগঞ্জে ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিএনপির লিফলেট বিতরণ মুন্সীগঞ্জে ২০ লাখ ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ  মুন্সীগঞ্জে শ্রমিক লীগ কর্মী হত্যার আসামী গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জে তিন কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রির লক্ষ্য  সাংবাদিক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিমের জন্মদিন উদযাপন মুন্সীগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৩৮৪টি পদই শূন্য মেঘনায় নিখোঁজ শরীফের মরদেহ উদ্ধার বিএজেএফ’র আন্তর্জাতিক সম্পাদক হলেন মুন্সীগঞ্জের মেহেদী আল আমিন বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বির্তক প্রতিযোগিতা হয়ে উঠে প্রাণবন্ত মুন্সীগঞ্জ ২০টি পূজা মণ্ডপে অনুদান দিল বিএনপি নেতা রতন পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের ম্যুরালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে চিত্রকর্ম টঙ্গীবাড়িতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করন ও আলোচনা সভা মুন্সীগঞ্জে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে স্ত্রীকে তালাক যুবদল নেতার মেঘনা নদীতে ভাসছিল সাংবাদিক  বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ  সিরাজদিখানের আ’লীগ নেতা আমজাদ ঢাকায় গ্রেপ্তার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা ও  মুন্সীগঞ্জে শহীদ হয় ১৬ জন মুন্সীগঞ্জে “জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ”  উদ্বোধন করলেন দুই উপদেষ্টা  ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মুন্সীগঞ্জ শহরে দুই দফা উচ্ছেদ  অভিযান মুন্সীগঞ্জের ৩ শহীদ স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ গোপালগঞ্জের মতো আরও ১০ জায়গায় হামলা  চালালেও আমাদের দমন করা যাবে না  মুন্সীগঞ্জে ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান  দিবস উদযাপনে প্রতীকী ম্যারাথন চরকেওয়ারে শিক্ষার্থীদের মাঝে  গাছের চারা বিতরন ও বৃক্ষরোপণ সিরাজদীখানে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যে ভরাট হচ্ছে কৃষি জমি  ইছামতীর তীরে বাঁধ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে, রক্ষায় মানববন্ধন গ্রামবাসীর

৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধে সফলতা অর্জন করে মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে এবং মিত্র বাহিনীর বিমান বহরের হামলার মুখে পড়ে পাক সেনারা মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে পিছু হটে। তারা শহরের হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পে এবং ধলেশ্বরীর উত্তর প্রান্তের চরে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে ধলেশ্বরী নদী সংলগ্ন নয়াগাঁও এলাকায় মর্টার সেল নিক্ষেপ করতে করতে পাক হানাদার বাহিনী মুন্সীগঞ্জ শহর ছাড়তে শুরু করে। ১০ ডিসেম্বর রাত ৩টায় প্রচন্ড শীতের ঘন অন্ধাকারে মুন্সীগঞ্জে তাদের সুরক্ষিত দূর্গ হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা তা টের পায় ১১ ডিসেম্বর ভোরে। এরপরই জয় বাংলা স্লেগানে বিজয় মিছিলে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জবাসী।
মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন অনু সমকালকে জানান, ৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ শহরের অদূরে রতনপুর ও আশপাশ এলাকায় পাক সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পাক সেনাদের তিনটি বড় দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এ সময় পাক সেনারা ধলেশ্বরী নদীতে গানবোট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে মর্টার সেলিং করছিল। মুক্তিযোদ্ধারাও পাক সেনাদের লক্ষ্য করে মুর্হুমুহু গুলিবর্ষন করতে থাকে। এক পর্যায়ে মিত্র বাহিনীর বিমান বহরের হামলায় পাক সেনাদের তিনটি গানবোট বিধস্ত হয়। এতে পাক সেনারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পিছু হটতে শুরু করে। এ যুদ্ধে তিন পাক সেনার লাশ পাওয়া যায় এবং স্থানীয় ১৪ থেকে ১৫ জন নিরীহ মানুষ মারা যায়।তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সফলতার খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জেও পাক সেনাদের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত যুদ্ধে লিপ্ত হতে সদরের ধলাগাওঁ, রামপাল, রতনপুর, মিরকাদিম ও আশপাশে প্রায় সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা চারিদিকে অবস্থান নেয়। এরপরই ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে জয়ের মুখ দেখে মুক্তিযোদ্ধারা।

একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে নির্দেশনার পর ১০ মার্চ মুন্সীগঞ্জে সংগ্রাম পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তিপাগল ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাকবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। ২৭ মার্চ ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, জনতা সিরাজদিখান থানা পুলিশ ক্যাম্পের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ২৯ মার্চ হরগঙ্গা কলেজে তৎকালীন শহীদ মিনারে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই দিন মুন্সীগঞ্জে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় ছাত্র ও জনতা। ৩১ মার্চ পাকবাহিনী নারায়নগঞ্জে আক্রমন করলে মুন্সীগঞ্জের দামাল ছেলেরা নারায়নগঞ্জের মানুষের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ৪ ঘন্টা যুদ্ধে অংশ নেয়। ২০ এপ্রিল পাকবাহিনীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের মুক্তিপাগল জনতার যুদ্ধ হয়।

এরপর অনেক প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ৯ মে পাকবাহিনী ঢুকে পড়ে মুন্সীগঞ্জে। তারা গজারিয়ায় হানা দিয়ে ফুলদী নদীর তীরে ৩৬০ জেলে ও কৃষককে ব্রাশফায়ার করে হত্যার মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জে প্রবেশ করে। তারা বেশ কিছু বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। গজারিয়ার চর ও জেলে পল্লীর ২’শ নিরীহ মানুষকে হত্যা ও গনহারে নারী ধর্ষনে মেতে ওঠে। ১৪ মে শহরের অদূরে কেওয়ার চৌধুরী বাড়িতে ১৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা ও ৫০ মহিলাকে ধর্ষন করে। ধলাগাওঁ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হানা দিয়ে ১০ মহিলাকে ধর্ষন করে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জনকে ধরে নিয়ে বটগাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা অব্যাহত রাখে হানাদার বাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, মুন্সীগঞ্জের মুক্তিপাগল ছাত্র যুবক ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে জুনের শেষের দিকে মুন্সীগঞ্জে ফিরে স্থানীয় ছাত্র ও যুবককে ক্যাম্প থেকে ১৫ থেকে ২০ দিনের গেরিলা প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫শ’ তে উপনীত হয়। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ১১ আগষ্ট শ্রীনগর থানা, ১৪ আগষ্ট লৌহজং থানা দখল করে মুক্তিযোদ্ধারা। সেপ্টেম্বর মাসে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাড়ৈখালীর শিকরামপুর হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক সেনাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। নবাবগঞ্জ থেকে ৩টি গানবোট বোঝাই পাকসেনারা শিকরামপুরে পৌছলে মুক্তিযোদ্ধারা সশন্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি গানবোট নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ যুদ্ধে শতাধিক পাকসেনা নিহত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা লৌহজংয়ে গোয়ালীমান্দ্রায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক পাক সেনাকে হত্যা করে। ২৫ সেপ্টেম্বর সিরাজদিখানের সৈয়দপুর লঞ্চঘাটে যুদ্ধে ৯ পাক সেনা নিহত হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা আরও জানায়, অক্টোবর মাসে  মিরকাদিম, ধলাগাও, ও টঙ্গিবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি অপারেশন চালিয়ে সফলতা পায় মুক্তিযোদ্ধারা। ৪ নভেম্বর টঙ্গিবাড়ী থানা দখল এবং ৮ ও ১৯ নভেম্বর সিরাজদীখানে দুই দফা আক্রমনে পাকবাহিনী আত্নসমর্পন করে। এছাড়া ১৪ নভেম্বর রাতে ৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ৭টি গ্রুপে ভাগ হয়ে তুমুল যুদ্ধের পর মুন্সীগঞ্জ থানা দখলে নিয়ে ২৭টি রাইফেল লুট করে নিয়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, যুদ্ধে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গজারিয়ায় কমান্ডর নজরুল ইসলাম  পাক সেনাদের গুলিতে নিহত হন।

আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায়

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায়

শৈশবে ডাকনাম ছিল পুতুল। বিয়ের পর খালেদা খানমের সঙ্গে যুক্ত হয় স্বামীর নামের একাংশ। দিনাজপুর ও ফেনীতে বেড়ে ওঠা সেই পুতুল একসময় দেশে-বিদেশে পরিচিত হন খালেদা জিয়া নামে।

জীবনের ৭৯ বসন্তে খালেদা খানমের খালেদা জিয়া হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল শেষ চার দশক। যেটির শুরু হয় ১৯৮১ সালে। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও স্বামী জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে খালেদা জিয়া ছিলেন ঘোর অনাগ্রহী। কিন্তু সাধারণ এই গৃহবধূকে রাজনীতিতে টেনে আনে অকাল বৈধব্যের নিয়তি।

তখনকার উথালপাথাল রাজনীতির মঞ্চেও খালেদা জিয়া টিকে যান জনতার সমর্থনে। সামরিক শাসকের প্রলোভনে যখন সহযোদ্ধারা একে একে ছেড়ে যাচ্ছিল, তখনও গণতন্ত্রের পক্ষে শির উন্নত রেখে সমর্থকদের চোখে হয়ে ওঠেন আপসহীন। প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি থেকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েও আপস করেননি। জীবনের শেষ বছরগুলোতে অশক্ত শরীরেও ছিলেন দৃঢ়চেতা নেত্রী। তাঁর সেই সংগ্রামী জীবনকে থামিয়েছে মৃত্যু।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ইন্তেকাল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৭৯ বছরের অর্জনপূর্ণ জীবনের অবসানেও তাঁর জন্য শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ। শুধু কর্মী-সমর্থক নন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিযোগী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

পৌষের কনকনে শীতের ভোরে খালেদা জিয়ার প্রয়াণ খবর ছড়িয়ে পড়লে, থমকে যায় পুরো দেশ। হাজারো মানুষ ছুটে আসেন হাসপাতালে। ভেতরে-বাইরে ওঠে কান্নার রোল। নির্বাচনী মৌসুমেও দিনভর রাজধানীর পথঘাট ছিল তুলনামূলকভাবে ফাঁকা।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা মৃত্যু সংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর টিভি পর্দায় এসে একই খবর দেশবাসীকে জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ঘোষণা করেন বুধবার সাধারণ ছুটি এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।

মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে
ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

মুন্সীগজ্ঞ সদরের ডেকরাপাড়া গ্রামে ক্রয়কৃত সোয়া ৮ শতাংশ সম্পত্তিতে ঘর উত্তোলন করতে গিয়ে হয়রানির কবলে পড়েছে সৈয়দ শেখ গং।
প্রতিবেশীর বাঁধার মুখে ঘরতো উত্তোলন করতে পারেনি উল্টো সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকিতে আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ডেকরাপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান গংদের কাছ থেকে সোয়া ৮ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন সৈয়দ শেখ ও তার ৪ ছেলে। এ খবর জানতে পেরে প্রতিবেশী রহিম শেখের দুবাই ফেরত দুই ছেলে রনি শেখ ও জনি শেখ গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করেন।

এছাড়া এই সম্পতি কেনার পর পরই রামপাল এলাকার আব্বাশ ভান্ডারী নামের এক ভূমিদস্যু
ও আলী শেখের শ্বশুর মোল্লাকান্দির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর এই সম্পত্তির উপর আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

বিল্লাল শেখ বলেন, এর মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রামপালের আব্বাস ভান্ডারী ও ডেকরাপাড়া গ্রামের আলী শেখ লোকজন নিয়ে গত ৭ নভেম্বর আমার বাবা মোঃ সৈয়দ শেখকে কৌশল করে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে নেয়। এ ঘটনার পর বিষয়টি স্বজনদের জানানো হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিবেশী নয়ন শেখ বলেন, বিল্লাল শেখ গং আনিসুর রহমানের কাছ
সোয়া ৮ শতাংশ সম্পত্তি কিনলেও কাগজপত্রে তারা ৫ শতাংশ সম্পত্তি পাবে। সোয়া ৩ শতাংশ সম্পত্তির কোনো বৈধতা না থাকায় সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করতে বলেছি। এটা সমাধান না করে ঘর তুলতে চাইলে বাঁধা দেওয়া হয়। এছাড়া সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে গত বুধবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করলেও তারা আসেনি।

মোল্লাকান্দি বিএনপির বিরোধে তুহিনের পর নিহত হল আরিফ

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মোল্লাকান্দি বিএনপির বিরোধে তুহিনের পর নিহত হল আরিফ
দুই গ্রুপের বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে বিএনপির কর্মী তুহিন দেওয়ান নিহত হওয়ার ৮ দিনের মাথায় আবারও বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হলো বিএনপি কর্মী আরিফ মীর (৩৫)। গতকাল সোমবার সকালে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া গ্রামে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ আরিফ মীর ও ইমরান মীরসহ আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফ মীরকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ ইমরান মীর (২২) ও আহত মো. ফারুককে (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত আরিফ মীর চরডুমুরিয়া গ্রামের প্রয়াত খবির মীরের ছেলে এবং সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক উজির আলী ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে এ ঘটনার পর মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামে গ্রামে আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এক সঙ্গে চলছে গ্রেপ্তার অভিযান। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে দুই গ্রুপের লোকজন নিরাপদ স্থানে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়,  মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য আতিক মল্লিক ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অহিদ মোল্লা এবং সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক উজির আলী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত ২ নভেম্বর রাতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয় তুহিন সরকার নামের এক যুবক।
গ্রামবাসী জানায়, ওই হত্যাকান্ডের পর থেকে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা একে অপরকে ঘায়েল করার লক্ষ্য নিয়ে বিপুল পরিমানের ককটেল বোমা (বিস্ফোরক দ্রব্য) ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এরই অংশ হিসেবে রোববার দিবাগত রাতভর দুই গ্রুপের লোকজন গ্রামে গ্রামে মূর্হুমুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ নিজেদের প্রস্তুত থাকার বিষয়টি প্রতিপক্ষকে জানান দিচ্ছিল। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল বোমা নিয়ে নিজ নিজ গ্রামে মহড়া দিতে থাকে রাতভর।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে মোল্লাকান্দির চরডুমুরিয়া, রাজারচর, আমঘাটা, মহেশপুর, পূর্ব ও পশ্চিম মাকহাটী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গ্রামে আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামগুলোর পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছে। বসতবাড়িতে অবস্থান করছে নারী ও শিশুরা। সকলের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় চরডুমুরিয়া গ্রামের
 গৃহিনী আলেয়া বেগম, মোরশেদা আক্তারের সঙ্গে। তারা জানালেন, রাতভর দুই গ্রুপের মুর্হুমুহু ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে শিশু সন্তানদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে তারা। কখন দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি বেঁধে যায় এই শঙ্কায় ঘর থেকে বের হয়নি নিরীহ মানুষ।
গ্রামবাসী জানায়,  রাতভর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সোমবার ভোর সকাল ৬টার দিকে বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মী সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে।  সংঘর্ষে আতিক-অহিদ গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে মিলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর সরকার  ও খাইরুদ্দিন গ্রুপে অংশ নেয় বলে স্থানীয় গ্রামবাসী জানিয়েছেন । সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ ৩ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ আরিফ মীরকে মৃত ঘোষনা করেন।
নিহত বিএনপি কর্মী আরিফ মীরের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, রাতভর ককটেল বিস্ফোরন হয়েছে গ্রামে। সকাল হতেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। এসময় আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হলে বিএনপি নেতা আতিক মল্লিক-অহিদ মোল্লা গ্রুপের ইউসুফ-খাইরুদ্দিনসহ ৬-৭ জন গুলি ছুড়তে থাকে। তাদের ছোড়া গুলিতে আমার স্বামী মারা যান।
স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, গত ২ নভেম্বর রাতে ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিপক্ষ গুলি চালিয়ে তুহিন সরকারকে হত্যা করে। নিহত তুহিন দেওয়ান ওয়াহিদ-আতিক মল্লিক গ্রুপের সমর্থক ছিল। ওই হত্যার বদলা নিতেই সোমবার গুলিতে নিহত হলো আরিফ মীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  বিএনপির বিবদমান দুটি পক্ষের একটির নেতৃত্বে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ মোল্লা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক। অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আলী
ও বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন মোল্লা।
জানা গেছে, যে দল ক্ষমতায় থাকে, এ ইউনিয়নে সে দলের নেতারা আধিপত্য বিস্তার করতে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যান। তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। আওয়ামী লীগের আমলে চেয়ারম্যান রিপন হোসেন এক পক্ষে ও মহসিনা হক অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিতেন। বিএনপির লোকজন তখন আওয়ামী লীগের ওই দুই পক্ষের হয়ে কাজ করতেন।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতারা পালিয়ে যান। শুরু হয় বিএনপি নেতাদের আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি। দল ভারী করতে বিএনপি নেতাদের দুটি পক্ষ আওয়ামী লীগের লোকজনকে এলাকায় এনে নিজেদের দলে ভেড়াতে শুরু করে। তুহিনদের দলে ভেড়ায় ওয়াহিদ পক্ষ। শুরু হয় ওয়াহিদ রায়হান ও উজির আলী দ্বন্দ্ব। গত ৫ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে আটজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় এই দুই পক্ষের লোকজন হাতাহাতি ও বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। এসব ঘটনার জের ধরে রোববার রাত ১০টার দিকে তুহিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। গত ২ নভেম্বর রাতে তুহিনকে গুলি করে হত্যার ৮ দিনের মাথায় আবারও প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হল আরিফ মীর। দুই গ্রুপের বিরোধে ৮ দিনের ব্যবধানে ২ জন বলি হলো।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপির সমাবেশে মিছিল নিয়ে যোগ দিতে আসা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এর জের ধরে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা একে অপরকে ঘায়েল করতে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিলো বলে গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে।
মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপি নেতা আতিক মল্লিক এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রীসীদের শেল্টার দিচ্ছে। তার শেল্টার পেয়ে পলাতক থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গ্রামে ফিরে শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলেছে। সোমবার ভোর সকালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর সরকার, ইউসুফ ফকির ও খাইরুদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে আমার লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে আমার লোকজনকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছে এবং বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়েছে। এ সময় তাদের গুলিতে আরিফ গুলিবদ্ধি হয়ে মারা যায়।
অপরদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনো ভাবেই জড়িত না। আজকে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে-এটা তাদের দায়। বিএনপি নেতা উজির আলী ও আওলাদ মোল্লা গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে মিলে বিএনপির অপর গ্রুপের নেতাকর্মীদের গ্রামছাড়া করে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের অভিযান চলছে।