মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ছুরিকাহত, আটক ১
মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ পঞ্চসারে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী অমিত হাসানকে (১৯) ছুরিকাঘাত করেছে। এ সময় আরও তিন শিক্ষার্থী আহত হয়। বুধবার রাত ১১টার দিকে পঞ্চসার ইউপির মালিরপাথর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ছুরিকাহত অমিত হাসানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অমিত মালির পাথর গ্রামের ইব্রাহিম ভূঁইয়ার ছেলে। এ বছর মুন্সীগঞ্জ কলেজ থেকে এ্ইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।
অপর আহত হরগঙ্গা কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফারদিন হাসান আবির (২৪), বুলবুল আহমেদ রাজ (২৪) ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফাহিম মুনতাসির নোমানকে (২৪) রাতেই মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অন্যতম মো. রহমান ওরফে সাদেক (২৬) কে আটক করা হয়েছে। এতে অমিতের ভাই আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি মামলা দায়ের করে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মো. খলিলুর রহমান।
এদিকে অমিতকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন ওই এলাকার রকিব, মো. রহমান ওরফে সাদেক, আমিনুল, নিঝুম, কাশেম, রনি, সানি, শাকিল, সবুজ ও সুমন। এতে তার পিঠের নিচে কিডনির অংশের পাশে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। অমিত বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন স্বজনরা জানান।
খালাতো ভাই মেহেদী হাসান শান্ত বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে মুন্সীগঞ্জে যেসব কর্মসূচি হয়েছে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে অমিত। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন বিডি ক্লিন সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর মধ্যে বুধবার রাতে মালির পাথর প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গেলে সেখানে থাকা ৪-৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে অমিতকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় তার আর্তচিৎকারে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছুটে গেলে হামলায় তারাও আহত হয়। পরে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে স্থানীয়রা। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক অমিতকে ঢাকায় পাঠায়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাতেই সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
