খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম:
শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন রোমান আকন্দ মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১২ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশনা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি  মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী  বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল মুন্সীগঞ্জে পরিচ্ছন্নকর্মীদের বহুতল ভবন হস্তান্তর জুনে আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবদল নেতা মনজিল মুন্সীগঞ্জে সামাজিক সংগঠন সহসত্তা’র আত্মপ্রকাশ গজারিয়ায় সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি,থানায় অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে ভাসমান অবস্থায় ১ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার মুন্সীগঞ্জে লুট হওয়ার পর ফেরত ২১৯ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৮২৫ রাউন্ড গোলাবারুদ হস্তান্তর টঙ্গিবাড়ীতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী টঙ্গিবাড়ীতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী মালয়েশিয়ায় আগুনে পুড়ে নিহত ৩ প্রবাসীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন  পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা জট বাংলাদেশে, বর্তমানে পেন্ডিং ৪৩ লাখ মামলা ১৬ বছরের পা রাখলো ‘কালের ছবি’ টঙ্গিবাড়ীতে ন্যায্যমূল্যে সবজি বিক্রি করছে শিক্ষার্থীরা আবারও সক্রিয় মেঘনা-গোমতী নদীর আতঙ্ক জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনী মুন্সীগঞ্জে রোড মার্চ, পথসভা ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে উজ্জীবিত জেলা বিএনপি চরকেওয়ার মাহমুদিয়া মাদরাসা ও ইসলামী কিন্ডারগার্টেনে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত দুই মাসের মধ্যে মুন্সীগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজের কাজ উদ্বোধন করা হবে-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Descubre las joyas ocultas de los sitios gemelos de Golden Lady Casino মুন্সীগঞ্জে ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান  দিবস উদযাপনে প্রতীকী ম্যারাথন Pinnacle Eastpak der unvergleichliche Stil für echte Abenteurer আপোষহীন নক্ষত্রের অন্তিম বিদায় ৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত যুদ্ধ, মুন্সীগঞ্জ মুক্ত ১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে বাঁধা প্রতিবেশী

আবারও সক্রিয় মেঘনা-গোমতী নদীর আতঙ্ক জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
আবারও সক্রিয় মেঘনা-গোমতী নদীর আতঙ্ক জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনী

আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা ও গোমতির নদী পথের আতঙ্ক জলদস্যু জিতু রাঢ়ী ও তার বাহিনীর সদস্যরা। দেশোর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে জিতু তার সহযোগীদের নিয়ে ২৫ কিলোমিটার নৌপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসা, নৌযানে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে গৃহবধূ মমতাজ বেগম হত্যা, চাঞ্চল্যকর হালিম হত্যা, কিশোর সাগর হত্যা, র‍্যাবের সাথে গোলাগুলি, ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স লুট, শ্যালকের স্ত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা, চাঁদাবাজিসহ ২৯টি মামলা থাকলেও বহাল তবিয়তে জল ও স্থল পথ দাবড়ে বেড়াচ্ছে জলদস্যু জিতু গং।

অন্যদিকে ২০১১ সালে সংঘটিত হালিম হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদী মিনু বেগম ও স্বাক্ষী হারুন সরকারকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে জলদস্যু জিতু রাঢ়ী। এ কারনে প্রান ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে হত্যা মামলার স্বাক্ষী যুবদল কর্মী হারুন সরকার। এ বিষয়টি তুলে ধরে হত্যাসহ ২৯ মামলার আসামী জিতু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত বছরের ৩ অক্টোবর বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত আবেদন করলেও গত ৪ মাসেও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই সুযোগে জলদস্যু জিতু বাহিনী সক্রিয় হয়ে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন যুগ ধরে বাহিনীর প্রধান জলদস্যু জিতু রাঢ়ী ও তার দলের সদস্যরা গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া, পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ, চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকাধীন মেঘনা ও গোমতি নদীতে ডাকাতি, হত্যা, যাত্রীবাহী নৌযানে ডাকাতি, বালু ও মাটি বহনকারী বাল্কহেড এবং মাছের ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা ও গোমতী নদী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, চাঁদপুরের মতলব উত্তর, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও সীমানা ঘেঁষা হওয়ায় নদী পথে সংঘটিত অপরাধ কর্মকান্ডের দায়-ভার নিতে চায় না কোনো জেলার থানা পুলিশ। আর এ সুযোগে জলদস্যু জিতু বাহিনী মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়ার মেঘনা ও কুমিলার দাউদকান্দির গোমতি নদীতে গড়ে তুলেছে অপরাধের বিশাল নেটওয়ার্ক। ফলে জিতু বাহিনীর অত্যাচারে জিম্মি হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নাকের ডগায় দিনের পর দিন অসংখ্য অপরাধ কমর্কান্ড চালালেও জলদস্যু জিতু রাঢ়ী ও তার সহযোগীরা রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, নব্বই দশকের শুরুর দিকে জেলার গজারিয়া উপজেলার নদী বেষ্টিত গুয়াগাছিয়া এলাকার মৃত হাফেজ রাঢ়ীর ছেলে জিতু রাঢ়ী, তার ভাতিজা, চাচাতো ভাই গেসু, ছলি ও রেনুসহ কিছু নিকট আত্নীয় নিয়ে গড়ে তুলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এরপর শুরু হয় তাদের নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় গ্রামবাসী আরও জানায়, নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুন রাহজানিসহ অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় জায়গা করে নেয় জলজস্যু বাহিনীর প্রধান জিতু ও তার দলের সদস্যরা। জিতু ও তার বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার পুলিশ ও র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়। জেল থেকে বের হয়ে আবারও শুরু করে একই কর্মকাণ্ড। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন থানায় জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে জলদস্যু জিতু রাঢ়ী আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি মৃণাল কান্তি দাসের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর বেপরোয়া হয়ে ওঠে জিতু ও তার বাহিনী। ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আলোচিত হালিম হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী তৎকালীন গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হারুন সরকারের ওপর হামলা করে তার ডান পা কেটে নেয় ডাকাত সরদার জিতু ও তার বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ গজারিয়ার মেঘনা নদীতে ডাকাতি করতে গিয়ে জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনী মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪ বছরের এতিম কিশোর সাগরকে হত্যা করে । ট্রলার যোগে মতলব থেকে বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়ে প্রান হারায় সাগর। এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই মহসিন মিয়া বাদী হয়ে জলদস্যু জিতুকে প্রধান আসামী করে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

২০১১ সালের ২৪ মার্চ গভীর রাতে জলদস্যু জিতু ও তার বাহিনী ঘরে ঢুকে আমেরিকা প্রবাসী গৃহবধু মমতাজ বেগমকে (৫৫) খুন করে ঘরে রক্ষিত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নেয়। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় জিতুর ভাই।

এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর ৩১ মার্চ মতলব উত্তর বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় দোকান থেকে ডেকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের যুবক হালিমকে হত্যা করে জলদস্যুরা। এ ঘটনায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় জলদস্যু জিতুকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে নিহতের মা মিনু বেগম।

২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করার সময় র‍্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মারা যায় জলদস্যু জিতুর ভাতিজা দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ফয়েজ। এ ব্যাপারে র‍্যাব বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করে।

২০০৯ সালের ২৮ মে রাতে গোমতি নদীর গুয়াগাছিয়ার বসুরচর এলাকায় জলদস্রু জিতু ও তার বাহিনী ডাকাতি করার প্রস্তুতিকালে র‍্যাবের সাথে গোলাগুলি হয়। গোলগুলি শেষে র‍্যাব জলদস্যু জিতুর দুই ভাই অলি ও কলিমউদ্দিনকে অস্ত্রসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে। এ ব্যাপারে র‍্যাব বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে জলদস্যু জিতু রাঢ়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গজারিয়া থানায় ওসি মো.আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, নৌ ডাকাত ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। বাহিনীর প্রধান জিতু রাঢ়ী ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। শিগগিরই জলদস্যু জিতু রাঢ়ীকে আইনের আওতায় নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নৌ ডাকাত ও জলদস্যুেদের অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

 

শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন রোমান আকন্দ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন রোমান আকন্দ

শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসজেইউ)-এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে মনোনীত হয়েছেন দৈনিক আমাদের সময় ও বাংলানিউজ ২৪ ডটকমের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. রোমান আকন্দ।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও বার্ষিক ফল উৎসব শেষে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়াও সভায় দৈনিক হুংকার-এর নির্বাহী সম্পাদক ও ভোরের ডাক-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি এম. হারুন অর রশিদ সভাপতি, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও দিনকাল-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. আল-আমিন শাওন পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং চ্যানেল এস-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. খোরশেদ আলম বাবুল সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ রোমান আকন্দ বলেন, “শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন হবে পেশাদার, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সকলের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী সাংবাদিক সংগঠন গড়ে তুলতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব।”

আলোচনা সভা ও বার্ষিক ফল উৎসব শেষে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় সংগঠনের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মো. রোমান আকন্দ এর আগে শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও শরীয়তপুর প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জমি-সংক্রান্ত বিরোধ

মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১২

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার চরাঞ্চলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

আজ রোববার (১২.০৭.২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি গ্রাম এ তিন দফায় অস্ত্রের মহড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ পর্যায়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালেও উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

বিবাদমান পক্ষ দুটি হলো মো. বোরহানউদ্দিন মিজি ও সরাফত আলী সরকার। সংঘর্ষে আহতরা হলেন বোরহান মিজি পক্ষের জাহাঙ্গীর মিজি (৪০), শরিফ মিজি (৩২), আরিফ মিজি (২৯), কবির মিজি (৫৫), শেফালী বেগম (৩৬) ও পপি বেগম (২৮)।

সরাফত আলী সরকার পক্ষের আহতরা হলেন আলমগীর বেপারি (৬০), রবিন (২৮), দুলাল (৩০), সাব্বির বেপারি (২২), আক্তার বেপারি (২৫) ও দিলা দেওয়ান (৪০)। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর, রবিন, দুলালসহ উভয় পক্ষের তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বোরহান মিজি ও তাঁর প্রতিবেশী সরাফত আলী সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সকালে বোরহান মিজিরা তাঁদের জায়গায় ঘর তুলছিলেন। সে সময় সরাফত পক্ষের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বন্দুক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বোরহান মিজিদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় বোরহান মিজির ছেলেরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল আমীন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাঁদের শরীর ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে আরও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বোরহান মিজির ছেলে শরিফ মিজি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসতভিটা দখল করতে সরাফত সরকাররা হামলা, মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। রোববার সকালে আমরা আমাদের জায়গায় ঘর তুলছিলাম। তখন সরাফত সরকার পাশের গ্রামের আলমগীর, দিলাদের ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বন্দুক দিয়ে গুলি করে, বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে। আমার ভাই জাহাঙ্গীর মিজিকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। আমরা আহত হওয়ার খবর শুনে আমার ছোট ভাই রাজীব মিজি ঘটনাস্থলে এলে তাকেও পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এখন আমরা বোরহানদের ভয়ে এলাকায়ও যেতে পারছি না।”

অভিযোগের বিষয়ে সরাফত আলী সরকার বলেন, “আমরা কারও ওপর হামলা করিনি। বোরহানরাই আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছিল। সকালে জমির গাছপালা কেটে জোর করে দখল করতে গেলে আমরা বাঁধা দেই। তখন বোরহান মিজির ছেলেরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তছলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই

অপরাধ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:২৩ পূর্বাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরশিলমন্দি জসিমনগর এলাকার ছুরিকাঘাত করে আরিফ বেপারী (৩৭)  হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামী নুর মোহাম্মদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে প্রধান আসামী নুর মোহাম্মদকে (৩০)।  পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিভাবে এবং তার সঙ্গে আর কারা উপস্থিত ছিল তাদের নাম-পরিচয়ও

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তুলে ধরে হত্যা সংঘটিত করার বর্ণনা নুর মোহাম্মদ তুলে ধরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান।

মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহত মো. আরিফ বেপারী পৌরসভার পাঁচঘরিয়া এলাকার প্রয়াত মতিন বেপারীর ছেলে। সে মুন্সীরহাট বাজারে কসাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো এবং চরশিলমন্দি জসিমনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার কাছে অপর কসাই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত ১৩ জুন বিকেলে মুন্সীরহাট বাজারে দুই পক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই নুর মোহাম্মদ তার সহযোগীদের নিয়ে আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পিবিআই তদন্তে নেমে জানতে পারে, ঘটনার রাতে নুর মোহাম্মদ কৌশলে আরিফকে ডেকে নেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে রেখে আসামীরা পালিয়ে যায়।

পরদিন ১৪ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরশিলমন্দি এলাকার একটি ঘাসের জমিতে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। এরপর পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকা থেকে প্রধান আসামী নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই আকাশকেও আটক করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। বুধবার  তাকে মুন্সীগঞ্জের আদালতে হাজির করা হলে নুর মোহাম্মদ আদালতেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

জবানবন্দিতে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেন। নুর মোহাম্মদ ও আকাশ গ্রেপ্তার হলেও অপর আসামীরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে, পিবিআই কর্মকর্তা জানান, আসামীদের গ্রেপ্তার করার স্বার্থে অপর আসামীদের নাম প্রকাশে গোপনীয়তার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

 

2