খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম:
নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ৫৪৮ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৪৭ অন্তরবর্তী সরকারের সময় থেকে দেশে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘন্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি দুই বছর পেরিয়েছে অধরা অস্ত্রধারীরা, উদ্ধার হয়নি  অস্ত্র মুন্সীগঞ্জে ৪ কেজি গাজাসহ গ্রেফতার এক সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের ইন্তেকাল মুন্সীগঞ্জে অবৈধ ড্রেজারে বালু ভরাটের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা মুন্সীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে মুন্সীগঞ্জে সেমিনার মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক বাবুর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল হলেন মুন্সীগঞ্জের সম্রাট মুন্সীগঞ্জ আদালতের সরকারী আইনজীবীদের তালিকা পরিবর্তন মুন্সীগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মুন্সীগঞ্জে আদালতের রায় উপেক্ষা করে স্থাপনা ভাংচুরের অভিযোগ শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন রোমান আকন্দ মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১২ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশনা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি  মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী  বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল মুন্সীগঞ্জে পরিচ্ছন্নকর্মীদের বহুতল ভবন হস্তান্তর জুনে আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবদল নেতা মনজিল মুন্সীগঞ্জে সামাজিক সংগঠন সহসত্তা’র আত্মপ্রকাশ গজারিয়ায় সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি,থানায় অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে ভাসমান অবস্থায় ১ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে তিন কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রির লক্ষ্য 

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২৩ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে তিন কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রির লক্ষ্য 

আসন্ন শীত মৌসুম সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার গ্রামে গ্রামে সবজির বীজতলা প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষককুল। স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে বীজতলায় উৎপাদিত সবজির চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি বছরই বীজতলায় সবজির চারা রোপনে স্থানীয় কৃষককূল লাভের মুখ দেখে থাকেন। তাই চলতি মৌসুমে বীজতলা থেকে ৩ কোটি টাকার অধিক সবজি চারা বিক্রি হওয়ার আশা করছেন কৃষককূল। ইতিমধ্যে চলতি মৌসুমের বীজতলা থেকে সবজির চারা বিক্রির শুরু করেছে কৃষককূল।

অন্যদিকে সবজির চারা উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ জেলা মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপাল, পঞ্চসার, মহাকালী, বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধামারণ, আলদী, কাঠাদিয়া,আব্দুল্লাপুর, বেতকা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে গ্রামে বীজতলা প্রস্তুত করেছে কৃষক। ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, টমেটো, ব্রোকলি, কুমড়া, বেগুন প্রভৃতি সবজির চারা উৎপাদনে এখন জমিতে পুরো ব্যস্ত সময় দিচ্ছেন কৃষককূল।

সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামে গ্রামে রোপন করা বীজতলা পরিচর্চায় সারাদিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় বীজতলা ঢেকে রেখেছে বিশেষ ভাবে তৈরী মাঁচায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাঁচা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন বীজতলা। পরদিন সকালে যখন রোদ উঠে মাঁচা সরিয়ে নেন। দুপুরে রোদের প্রখরতা বাড়লে মাঁচায় ঢেকে দিচ্ছেন। আবার বৃষ্টিতেও মাঁচা গুলো বীজতলায় ঢেকে দেন। তাছাড়া দুয়েকদিন পরপরই পানি ওষুধ স্প্রে করছেন।

বীজতলার সঙ্গে জড়িত একাধিক কৃষক জানান, সবজি চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতি বছর আগষ্টের মাঝামাঝি সময়ে  বীজতলা প্রস্তুত শুরু করেন তারা। ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে চারা উৎপাদন। বীজ বোনার ২৫ দিনের ব্যবধানেই চারা বিক্রি করে থাকেন। প্রত্যেক বীজতলা তিন থেকে চার বার পর্যন্ত বীজ উৎপাদন করা যায়। প্রতি মৌসুমে দুই থেকে আড়াই কোটি সবজি চারা উৎপাদন হয়ে থাকে। যা থেকে বিক্রি হয়ে থাকে তিন থেকে চার কোটি টাকা। সবজির প্রকারভেদে প্রতি হাজার চারা বিক্রি এক হাজার  টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।

সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্য্যেরবাগ গ্রামের শিহাব সিকদার চলতি মৌসুমে ৪২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। তিনি জানান, চারা উৎপাদনে বীজতলার যত্ন নিতে হয় বেশ। এতে বিনিয়োগ করে অর্ধেক পরিমান লাভ হয়ে থাকে। একই ইউনিয়নের বনিক্যপাড়া গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া ২৫ বছর ধরে বীজতলা করে আসছেন। তিনি বলেন, এখানকার বীজতলার চারা উৎকৃষ্ট মানের। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের কাছে এর চাহিদা বেশী। তাই কখনো বীজতলা করে লোকসান হয়নি।

একই ইউনিয়নের পঞ্চসার গ্রামের আমির হোসেন জানান, তিনি আগষ্টের মাঝামাঝিতে ৫০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি ও বাধা কপির চারা উৎপাদনে বীজতলা করেছেন। প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ পড়েছে তার। ইতোমধ্যে চারা উত্তোলন করে বিক্রিও করেছেন। একই বীজতলায় আরও তিনবার চারা করবেন। আর এতে সব খরচ বাদে তিনি লাভের আশা দেখছেন।

জেলা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরা বংশ পরম্পরায় বীজতলা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন দেওয়ান বাজার গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন। তিনি ৩৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি, ব্রুকলি ও বাধা কপি চারার বীজতলা করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। বীজতলা থেকে উৎপাদিত চারা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে তার আশা।

রামপাল ইউনিয়নের জোড়ার দেউল গ্রামের কৃষক হুমায়ুন মিয়া জানান, বীজতলা তৈরীতে বেশ পরিশ্রম বটে। তিনি  প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার ফুলকপি-বাধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা চারা বিক্রি করেন। এতে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বছর তার কয়েক লাখ টাকা লাভ হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন সবজি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কর্মকর্তা রনি দাস জানান, শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক পেশা। জেলার দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষক বীজতলায় চারা উৎপাদন পেশা হিসেবে নিয়েছেন। চারা উৎপাদনে জৈবসার ও খৈল ব্যবহার হয়ে থাকে। এ কারণে এখানকার চারার গুণগত মান ভালো। তিনি আরও জানান, স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এখানকার সবজি চারা কেরানীগঞ্জ, সাভার, মানিকগঞ্জ, সিলেট,কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে এ জেলায় শীতকালীন সবজি আবাদ শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চারা উৎপাদনে বীজতলা করেছেন কৃষকরা। উৎপাদিত চারা জেলার স্থানীয়  কৃষকের চাহিদা পূরণ করে দেশের ২৫টি জেলায় বিক্রি হচ্ছে। এসব চারার গুনগত মান ভালো। যেসব কৃষক ভালো ফলন প্রত্যাশা করেন, দেশের যে কোনো প্রান্তের কৃষক হোন না কেন- এ চারা নিয়ে আবাদ করতে পারেন। তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টি ও বীজের দাম বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষকরা শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ

বিক্রমপুর পোস্ট রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ

 

মূল ভবনের ভেতরে ময়লার স্তূপ। মেঝেতে পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। বন্য গাছগাছালি ভবনের গা জড়িয়ে আছে। টিনের চালা ভেঙে দেখা যাচ্ছে আকাশ। পিলারের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। মূল ফটকের সামনে দাঁড় করানো মরচেপড়া কয়েকটি গাড়ি। পুরো ভবনজুড়ে পোড়ার ক্ষতচিহ্ন। উপরোক্ত চিত্রগুলো মুন্সীগঞ্জের নাট্যচর্চার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ‘গণসদন’ নাট্যমঞ্চের চিত্র।

 একসময় নাট্যকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হতো শহরের মালপাড়ার এই নাট্যমঞ্চ। এই মিলনায়তনকে কেন্দ্র করেই জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা বেগবান হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মিলনায়তন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে নাট্যচর্চার আঁতুড়ঘর “গণসদন” দেখলে কারোরই বোঝার উপায় নেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সাল থেকে এখানে নাটক হতো, মাসব্যাপী আয়োজন করা হতো নাট্য উৎসবের।

গণসদন মিলনায়তন হলের কাজ চলার সময় থেকেই নাটক মঞ্চায়িত হতে শুরু করে। ১৯৭৭ সাল থেকে সেখানে নাটক, নাট্যোৎসব করা হতো। ১৯৭৯ সালের ৭ জুলাই সেই সময়ের সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘গণসদনথ নাট্যমঞ্চটি উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৭-৯৮ সালে আবার সংস্কার করা হয় হলটিকে। সে সময় মূল ভবনের দুইপাশ দিয়ে বারান্দা তৈরি করা হয়। নির্মাণ করা হয় মেকআপ রুম। জেলা শহরে একমাত্র নাট্যমঞ্চ হিসেবে গণসদন হলটি ব্যবহৃত হয়েছে ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। এক রাতে অগ্নিকাণ্ডে হলটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে নাট্যমঞ্চটি। বিভিন্ন সময় সংস্কারের আশ্বাস পেলেও কোনও কাজ হয়নি।

অন্যদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন মঞ্চের অবস্থাও বেহাল। নাটক মঞ্চায়ন করার মতো পরিস্থিতি শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চেও নেই।

মুন্সীগঞ্জের নাট্যকর্মীরা বলছেন, মঞ্চের অভাবে জেলাটিতে ব্যাহত হচ্ছে নাট্যচর্চা। নাট্যকর্মীদের আধুনিক একটি মঞ্চের দাবি দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন তারা।

নাট্যকর্মীরা বলছেন, জেলাটিতে শহরকেন্দ্রিক নাট্যচর্চার ইতিহাস দীর্ঘ বছরের। মুক্তিযুদ্ধের আগে শহরের জগধাত্রীপাড়া নাট মন্দির, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের আশুতোষ হল ও দর্পণা সিনেমা হল, ছবিঘর সিনেমা হলে নাটক মঞ্চায়ন হতো। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করেও নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে সে সময়ে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা শুরু হয়। সে সময় প্রবাহ নাট্যগোষ্ঠী, অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং সৌখিন নাট্যচক্র এই তিনটি সংগঠন মূল ধারার নাট্যচর্চার পথপ্রদর্শক হিসেবে খ্যাত ছিল। পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জ থিয়েটার, থিয়েটার সার্কেল, সঞ্চালক নাট্যচর্চাকেন্দ্র ও হিরণ কিরণ থিয়েটার নাট্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

হিরণ কিরণ থিয়েটারের সভাপতি নাট্যকার জাহাঙ্গীর হোসেন ঢালী বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এরমধ্যে দুই-তিনটি দলের কার্যক্রম চলছে। অন্যগুলোর কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নয়।

জেলার নাট্য সংগঠনগুলো সচল থাকলেও মঞ্চের অভাবে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে নাটক মঞ্চায়ন করতে গেলে লাইট, সাউন্ড ভাড়া করে আনতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় নাটক মঞ্চায়ন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে নাট্য দলগুলো।

জানা গেছে, বিশ্ব নাট্য দিবসের প্রবর্তন হয় ১৯৬১ সালে। ২৭ মার্চকে বিশ্ব নাট্য দিবস বা থিয়েটার দিবস বলা হয়। বাংলাদেশে এই দিবস পালন শুরু হয় ১৯৮২ সাল থেকে।

নাট্যকার শিশির রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে ৬২টি, গ্রুপ ফেডারেশনভুক্ত আছে চারটি ও গ্রুপ ফেডারেশনের বাইরে আরও চারটি রয়েছে। থিয়েটার দিবসে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক, গান, গল্প, কবিতা, আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয়। আমাদের এখানে পৃষ্ঠপোষক কম। একটি নাটক করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, তা সংগ্রহ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা বিত্তবানরা যদি শিল্প-সংস্কৃতির দিকে নজর দেয় তাহলে আমরা আরও কিছু করতে পারবো। তবু সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নাট্যচর্চা অব্যাহত রয়েছে। করোনার সময়ে নাট্যচর্চায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তা কাটিয়ে উঠেছে নাট্য দলগুলো। ফিরেছে নিয়মিত নাট্যচর্চায়।

মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে সাংস্কৃতিক ও নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। করোনাকালীন নাট্যচর্চায় কিছুটা ভাটা পড়লেও সেই সংকট কাটিয়ে উঠে এখন শতভাগ সচল নাট্য দলগুলো। পাশাপাশি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিয়মিত কাজ করছে। তবে একটি মঞ্চের অভাব আমাদের নাট্যচর্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

নাট্যমঞ্চ নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা কালচারাল কার্যালয় সূত্র জানায়,  মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চসহ মিলনায়তন সংস্কার কাজ চলছে।

 

সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই

মুন্সীগঞ্জ জেলা অনলাইন ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক, দৈনিক দেশ সেবা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক নতুন দিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মরহুম হাজী ওয়ালী মাহমুদ ইমপ্রেস গ্রুপ (চ্যানেল আই)-এর অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক রিকাবী বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং নগর কসবা পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর চ্যানেল আই মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

হাজী ওয়ালী মাহমুদের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫

মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলার মিরকাদিমে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গেলো শনিবার সন্ধ্যায় মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রবিন বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. কামাল (৫৫), বাদল মিয়া (৪৫), শাহাদাত (৪৭), সুলতান (৬০), শামীম (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন বিভিন্ন সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও অভিযুক্তরা তা মানতে রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রামগোপালপুর এলাকায় রবিনের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সোহান (১০) ও তার ভাবির খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ভাবিকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে চাচাতো ভাই সজীব (৩৫) এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে রবিনের বাবা মো. দুলাল (৫৫) কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ রামগোপালপুর এলাকায় পৌঁছালে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার চিৎকার শুনে চাচাতো ভাই সজীব (৩৫), রজীব (২৭) ও চাচাতো ভাইয়ের শ্যালক আসলাম (১৭) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না। আমরা তাদের ওপর কোনো হামলা করিনি। ঘটনার দিন তারা একজন খানসামার সঙ্গে অনেক লোকজন নিয়ে সেখানে আসে। তখন অনেক মানুষের মধ্যে লাঠির আঘাতে তারাই আহত হয়েছে। আমরাও আহত হয়েছি।’

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, জায়গা-সম্পত্তির বিরোধের বিষয়টি সাধারণত আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে বিষয়টি আমরা দেখব।

2