টঙ্গিবাড়ীতে ন্যায্যমূল্যে সবজি বিক্রি করছে শিক্ষার্থীরা
“সিন্ডিকেট মুর্দাবাদ, কৃষক জনতা জিন্দাবাদ” এই স্লোগানে সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং ন্যায্যমূল্যে ক্রেতাদের হাতে সবজি পৌছে দিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পন্য বিক্রি শুরু করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। অল্প দামে সবজি পেয়ে খুশি ভোক্তারাও। রোববার সকাল থেকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের গেটের সামনে আলু, টমেটো, ঢেরশ, কাচা মরিচ, দুন্দুল, করলা, শষা, লাউসহ ২২ ধরনের সবজির পসরা সাজিয়ে কম দামে বিক্রি করছে ছাত্ররা।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সেখান থেকে পছন্দমতো সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ভোক্তারা। প্রতি কেজি টমেটো বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে ১৮০-২০০ টাকা কেজি, একই টমেটো ছাত্ররা বিক্রি করছেন ১৪০ টাকা। বাজারে এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, সেখানে ছাত্ররা বিক্রি করছেন ৫৩ টাকা। এছাড়াও ছাত্রদের স্টলে প্রতি পিছ লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, ডিম প্রতি হালি ৪৫, ঝিঙ্গা ৪০, ধুন্দুল ৪৫, বেগুন ৫০, লাল,শাক ৩০, ফুল কপি ৪৫, পাতা,কপি ৫০, লতি ৫৫, কাচা মরিচ ১৪০, সিম ১১০, ধনিয়া পাতা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আকলিমা বেগম নামের এক ক্রেতা ছাত্রদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাজারে প্রতিটি সবজি ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি বিক্রি হয়। এখানে ন্যায্য মূল্যে সবজি পেয়ে আমরা খুশি। তবে প্রশাসনের সহায়তায় বাজারে দাম কমালে সাধারণ মানুষ খুশি হবে।
মিনহাজ মিয়া নামের অপর এক ক্রেতা জানান, আমাদের হাসাইল বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ২০০ টাকা কেজি আর ছাত্ররা সেই টমেটো বিক্রি করছে মাত্র ১৪০ টাকা দরে। এক কেজি টমেটোতে ৬০ টাকা লাভ করে ব্যবসায়ীরা। এসব কারনেই বাজারে সবজি কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় দ্রুত ছাত্রদের নিয়ে প্রশাসনের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অভিযান না চালালে সিণ্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে না।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি জাহিদ হাসান জানান, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে গত শুক্রবার (পহেলা নভেম্বর) থেকে টঙ্গিবাড়ীতে ছাত্রজনতা সরাসরি কৃষকের থেকে সবজি ক্রয় করে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে মাঠে নেমেছে। শুধু পরিবহন খরচ রেখে বিনা লাভে আমাদের এই কার্যক্রম চলছে। যে পর্যন্ত বাজার সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
