টঙ্গীবাড়িতে সাংবাদিক পুত্রের জন্মদিন সপ্তাহ ব্যাপী গাছের চারা বিতরণ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে সাংবাদিক রাজিব পাল রনীর ছেলে রুদ্রপালের জন্মদিন উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সপ্তাহ ব্যাপী গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর রুদ্র পালের জন্মদিন উপলক্ষে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সপ্তাহ ব্যাপী ঘুরে ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৭১টি গাছের চারা বিতরণ করেন শিশুটির বাবা রাজীব পাল রনী ও মা পূর্ণিমা পাল। সাংবাদিক রাজিব পাল রনী বলেন, প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহ আর অক্সিজেনের অভাব পূরণ করতে গাছের বিকল্প নেই। তাই আমাদের একমাত্র সন্তান রুদ্রদীপ পালের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর গাছের চারা বিতরণ করেন তারা। তিনি আরও বলেন নতুন প্রজন্মের জন্য সবুজ, সমৃদ্ধ,নিরাপদ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে গাছের চারা বিতরণের মতো উদ্যোগ গহণ করেছি। এবছর কয়েকটি পর্বে বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এই গাছ বিতরণ কর্মসুচিতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নব নিযুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে একটি সোনালু গাছের চারা উপহার দেন রুদ্রদীপ পাল। তিনি বলেন,নি:সন্দেহে এটি একটি মহান উদ্যােগ। ব্যাতিক্রমধর্মী এই কর্মসূচির মাধ্যমে গাছ বিতরণের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব মানসিকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, ছেল রুদ্র জন্মগ্রহণ করার পর থেকে ৬ বছর ধরে ছেলে রুদ্রদীপের জন্মদিন উপলক্ষে চারা বিতরণের আয়োজন করেন এ দম্পতি। শুধু টঙ্গীবাড়ির আশেপাশে নয়,পাল দম্পতি তারা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের বিভিন্ন প্রান্তে পথচলতি মানুষের হাতে গছের চারা তুলে দিয়েছেন।
রুদ্রদীপের মা পূর্ণিমা পাল বলেন, বিতরণ করা চারা গাছগুলো বড় হয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরোও বলেন, পরিবেশ রক্ষা আমাদের দেশ প্রেমের অংশ। গাছ বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় টংগীবাড়ী মডেল সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। শিশুদের আঁকার বিষয় ছিল উন্মুক্ত। প্রতিযোগিতায় ৪৬ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা দুটি করে এবং চিত্রাঙ্কনে আংশগহণ অন্যান্য শিক্ষার্থীকে ১টি করে গাছপরব চারা উপহার দেন। কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জলপাই, কাঁঠাল,পেয়ারা বহেরা,হরতকি, চালতা, নিম, জাম, আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা শিশুদের মাঝে তুলে দেন। সার্বিক সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়টির সহকারি শিক্ষিকা শারমিন আক্তার। সেসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে কথা বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।
শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী সিমান্ত দেবনাথ গাছ পেয়ে অনেক খুশি। শিশুটি তার মাকে বলেন, বাড়ি নিয়ে চারা গাছটিকে যত্ন করে বড় করে তুলবেন। সিমান্তর মত গাছের চারা পেয়ে শিশুরা মহানন্দে বাড়ি ফিরেছেন। প্রধান শিক্ষক মো: আবদুল ছালাম বলেন, তিনি এ চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন। জানা গেছে, রুদ্র পালের জন্ম ২৮ নভেম্বর। চলতি বছর এই দম্পতির ছেলে ৬ থেকে ৭ বছরে পা দিয়েছে। আর প্রতিবছর ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভালো কাজের অংশ হিসেবে গাছের চারা বিতরণ করবেন এ দম্পতি। মূলত পরিবেশকে সুন্দর ও সবুজ গড়তেই এহেন উদ্যােগ নিয়েছেন তারা। তাদের এরকম অভিনব উদ্যােগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
