সিরাজদীখানে হিজাব না পড়ায় ৭ ছাত্রীর মাথার চুল কেটে দিলো শিক্ষিকা
হিজাব না পড়ায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ ছাত্রীর মাথার চুল কেটে দিয়েছে এক শিক্ষিকা। বুধবার জেলার সিরাজদীখান উপজেলার সৈয়দপুর আব্দুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী মাইসা জাহান, তানজিলা আক্তার, আনীল আক্তার, তাসফিয়া, মাহাদিয়া, সুমাইয়া ও ইফা নামে ৭ শিক্ষার্থী হিজাব না পড়ে যাওয়ার কারনে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ের সহকারি শিক্ষিকা রুমিয়া সরকারের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার খবর পেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ।
সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী মাইসা জাহান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার একটাই হিজাব। আর ওই হিজাব ময়লা হয়ে গেছে। তাই ধুয়ে দিয়েছি। এজন্য হিজাব না পড়েই স্কুলে যাই। ম্যাডামকে অনেক অনুরোধ করে বলেও আমি রক্ষা পাইনি। ম্যাডাম আমাকেসহ ৭ জনের মাথার চুল কেটে দিয়েছে। আমি আর ওই স্কুলে যামু না ।
মাইসা জাহানের বাবা মো. কহিনুর বলেন, আমার মেয়ে অন্যায় করেছে বললেই হত আমরা শাসন করতাম। তাকে চুল কেটে ন্যাড়া বানিয়ে দিয়েছে। তাই আমার মেয়েটা ভেঙ্গে পড়েছে ও আর স্কুলে যেতে চাচ্ছে না ।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রুমিয়া সরকারকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তাই অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। সৈয়দপুর আব্দুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিয়া মো. ফরিদ বলেন, ক্লাসেই কাঁচি ছিল। তাই হাতের কাছে পেয়ে এ কাজ করে ফেলেছে। তবে কাজটা অন্যায় করেছে । আমরা ব্যবস্থা নিবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনা জেনেছি। ইতোমধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করছি। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#
