খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম:
নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ৫৪৮ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৪৭ অন্তরবর্তী সরকারের সময় থেকে দেশে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘন্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি দুই বছর পেরিয়েছে অধরা অস্ত্রধারীরা, উদ্ধার হয়নি  অস্ত্র মুন্সীগঞ্জে ৪ কেজি গাজাসহ গ্রেফতার এক সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের ইন্তেকাল মুন্সীগঞ্জে অবৈধ ড্রেজারে বালু ভরাটের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা মুন্সীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে মুন্সীগঞ্জে সেমিনার মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক বাবুর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল হলেন মুন্সীগঞ্জের সম্রাট মুন্সীগঞ্জ আদালতের সরকারী আইনজীবীদের তালিকা পরিবর্তন মুন্সীগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মুন্সীগঞ্জে আদালতের রায় উপেক্ষা করে স্থাপনা ভাংচুরের অভিযোগ শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন রোমান আকন্দ মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১২ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশনা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি  মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী  বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল মুন্সীগঞ্জে পরিচ্ছন্নকর্মীদের বহুতল ভবন হস্তান্তর জুনে আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবদল নেতা মনজিল মুন্সীগঞ্জে সামাজিক সংগঠন সহসত্তা’র আত্মপ্রকাশ গজারিয়ায় সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি,থানায় অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে ভাসমান অবস্থায় ১ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন আবারো সিন্ডিকেটের কবলে পড়ছে। আবারো বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারী সিবিএ নামধারী গোষ্ঠী নতুন মোড়কে রং পাল্টে সুপরকিল্পতিভাবে তাদের পুরনো সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডশেন আইন ১৯৯৯ মূলে পল্লী বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক ব্রত নিয়ে পিডিবিএফ একটি অমুনাফাকাঙ্খী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

কিন্তু যাত্রার শুরু থেকেই পিডিবিএফ আইনের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিশেষত: প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক বেসরকারি ব্যক্তি নিয়োগের সুযোগ থাকায়, চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ নিজের চুক্তি টিকিয়ে রাখতে নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের পদে যেকোন মূল্যে টিকে থাকার প্রতি অধিকতর মনোনিবেশ করতো। সেই সাথে এই প্রতিষ্ঠানে সিবিএ কার্যক্রম পরচিালনার সুযোগ থাকায়, দলীয় ব্যানারে সিবিএ’র নামে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারী নেতাদের সাথে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অশুভ আঁতাত করে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে।

অশুভ এই আঁতাতের মূল ভিত্তি হলো- পারস্পারিক স্বার্থ চরিতার্থ করা। অর্থাৎ একদিকে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুর্নীতিবাজ সিবিএ সিন্ডিকেট কে অন্যায় সুবিধা প্রদান করবে আর বিনিময়ে ব্যবস্থাপনা পরচিালককে তার পদে বহাল রাখতে কথিত সিবিএ নেতাদের সমর্থন লাভ করবে। এভাবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিগত ২৫ বছর বিশেষ করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরে প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়।

জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ১৬ বছরের অন্যায়, অনিয়ম ও অপরাজত্বের এ সিন্ডিকেট চরম প্রতিরোধের মুখে পড়ে। ফ্যাসিস্ট সরকারের নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চুক্তি বাতিল করা হলে, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে প্রথমবাররে মতো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে প্রেষণে একজন যুগ্মসচিবকে পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

তৎপরর্বতীতে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হতে তাকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর পদে জনপ্রশাসনের নিয়মিত এই কর্মকর্তা সকল প্রকার নৈরাজ্য ও অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলা ও আনুগত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও অনমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটির সকল কাজে অনয়িম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় সিবিএ নামধারী স্বার্থনেষী দুষ্টচক্রের সকল অন্যায় উর্পাজনের পথ রুদ্ধ হয়।

অগ্রাধিকার চিহ্নিতপূর্বক প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক উন্নয়নে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অর্ন্তবর্তী সরকারের এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এর প্রধান কার্যালয়ের ভবন ক্রয়-কার্য সম্পাদন; ১৬৬৫ জন জনবল নিয়োগ; ১০৫২ জন কর্মকর্তা -কর্মচারীকে পদোন্নতি; আয়কর প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন; আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত হাজারো কর্ম কর্তাকর্তা-কর্মচারীর জন্য সর্বত্র সুস্থ কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়।

কিন্তু স্বার্থান্বেষী সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের সকল অন্যায় উর্পাজনের একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হিসেবে প্রেষণে নিযুক্ত যুগ্মসচিব’কে সরিয়ে দেবার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। পেশাদার এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বেনামি, অসত্য, বানোয়াট অভিযোগ দায়ের, ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার; টাকার বিনিময়ে কতিপয় দুর্নীতিপরায়ন সাংবাদিক দিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমুলক সংবাদ পরবিশেনসহ নানারূপ নোংরা ও অরুচিকর অপচেষ্টা অব্যাহত রাখে।

মন্ত্রণালয়ে নতুন কোন সচিব, উপদেষ্টা কিংবা মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করলেই এই সিন্ডিকেট তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে একইভাবে পুরনো অভিযোগ নতুন করে দায়ের করে। তথাপি তাদের অন্যায় হুমকি ও ষড়যন্ত্রের নিকট নিকট মাথা নত না করে সিন্ডিকেটে জড়িত ক্যক্তিদের নামপিরিচয় উল্লেখ করে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থা’কে নানা সময় লিখিতভাবে অবহিত করা হয় এবং তাদের অর্ন্তঘাতমূলক কর্মকান্ড মোকাবেলা করতে স্থানীয় থানায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষপে গ্রহণ করা হয়।

১২ই জানুয়ারী ২০২৬ জাতীয় নির্বা চনের পর নতুন রাজতৈনিত সরকার দায়িত্নব গ্র্বিারহণ করলে পিডিবিএফ পরিবারের হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে আশার সঞ্চার হয় যে, এবার হয়তো সুদিন ফিরবে। কিন্তু বড়েই পরিতাপের বিষয় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জুড়ে চিহ্নিত একই ব্যক্তিবর্গ এখন খোলস পাল্টে নতুন মোড়কে তাদের অন্যায় দুর্নীতির সামাজ্য পুন:প্রতিষ্ঠার নীল নকশা আঁকতে শুরু করে। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদায় ও জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন একটা ট্রানজিশন সময়কালকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রের কুটকৌশলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত যুগ্নসচিবকে ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখ অন্যত্র সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় এবং এরই মধ্য দিয়ে পিডিবিএফ ইতিহাসের সফলতম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। শয়তানী সিন্ডিকেটের বিজয় অর্জিত হয়।

সঙ্গবদ্ধ অপশক্তির কাছে ন্যায়ের লড়াই পরাজিত হয়। এখানেই শেষ নয়, সিন্ডিকেটের দুর্নীতির সাম্রাজ্যকে আরো বাধাহীন করতে তাদের অপর প্রতিবন্ধকতা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে প্রেষণে নিযুক্ত অপর পরচিালককেও বিগত ৮ এপ্রিল ২০২৬ অন্যত্র বদলি করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ পিবিডিএফ কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালার বিধান অনুযায়ী প্রেষণে পদায়নকৃত দুইজন পরচিালককেই এই সিন্ডিকেট সরিয়ে দিতে সক্ষম সক্ষম হয়।

একই সাথে এই সিন্ডিকেটের চক্রান্তেই প্রতিষ্ঠানের আইন ও প্রবিধানমালা লঙ্ঘন করে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের এক কর্মকর্তাকে পিডিবিএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরচিালকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রণীত আইন ও প্রবিধানমালায় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে সরাসরি অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরচিালকের অনুপস্থিতিতে শুধুমাত্র প্রেষণে/ সরাসরি নিযুক্ত পরিচালকগণের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরচিালকের দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে ধারাবাহিকভাবে প্রেষণে পরিচালকের দুইটি পদে যুগ্মসচিব পদায়ন এবং পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৯৯ সংস্কার/সংশোধনর্পূবক প্রধান নির্বাহী পদে সরকাররে উপযুক্ত কর্মকর্তা পদায়ন করা না হলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ও সরকারের কর্মসুচী সুচারুরূপে বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়বে।

পল্লী বাংলার দারিদ্র বিমোচনে অন্যতম অগ্রসেনানী পিডিবিএফ নামক প্রতিষ্ঠানটিতে সুশাসন, সুস্থ কর্ম পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও সক্ষমতা তৈরীর ধারাবাহিকভাবে টেকসই করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে প্রেষণে পরিচালকের পদায়ন অব্যাহত রাখা যেমন জরুরী তেমনি ভাবে প্রতিষ্ঠানটির মূল সংকট পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৯৯-এর যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাটির ব্যবস্থাপনা কাঠামোর কাংখিত পরিবর্তন আনা তেমনি অপরিহার্য। সূত্র- বৈশাখী টিভি অনলাইন

 

নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ

বিক্রমপুর পোস্ট রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ

 

মূল ভবনের ভেতরে ময়লার স্তূপ। মেঝেতে পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। বন্য গাছগাছালি ভবনের গা জড়িয়ে আছে। টিনের চালা ভেঙে দেখা যাচ্ছে আকাশ। পিলারের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। মূল ফটকের সামনে দাঁড় করানো মরচেপড়া কয়েকটি গাড়ি। পুরো ভবনজুড়ে পোড়ার ক্ষতচিহ্ন। উপরোক্ত চিত্রগুলো মুন্সীগঞ্জের নাট্যচর্চার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ‘গণসদন’ নাট্যমঞ্চের চিত্র।

 একসময় নাট্যকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হতো শহরের মালপাড়ার এই নাট্যমঞ্চ। এই মিলনায়তনকে কেন্দ্র করেই জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা বেগবান হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মিলনায়তন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে নাট্যচর্চার আঁতুড়ঘর “গণসদন” দেখলে কারোরই বোঝার উপায় নেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সাল থেকে এখানে নাটক হতো, মাসব্যাপী আয়োজন করা হতো নাট্য উৎসবের।

গণসদন মিলনায়তন হলের কাজ চলার সময় থেকেই নাটক মঞ্চায়িত হতে শুরু করে। ১৯৭৭ সাল থেকে সেখানে নাটক, নাট্যোৎসব করা হতো। ১৯৭৯ সালের ৭ জুলাই সেই সময়ের সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘গণসদনথ নাট্যমঞ্চটি উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৭-৯৮ সালে আবার সংস্কার করা হয় হলটিকে। সে সময় মূল ভবনের দুইপাশ দিয়ে বারান্দা তৈরি করা হয়। নির্মাণ করা হয় মেকআপ রুম। জেলা শহরে একমাত্র নাট্যমঞ্চ হিসেবে গণসদন হলটি ব্যবহৃত হয়েছে ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। এক রাতে অগ্নিকাণ্ডে হলটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে নাট্যমঞ্চটি। বিভিন্ন সময় সংস্কারের আশ্বাস পেলেও কোনও কাজ হয়নি।

অন্যদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন মঞ্চের অবস্থাও বেহাল। নাটক মঞ্চায়ন করার মতো পরিস্থিতি শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চেও নেই।

মুন্সীগঞ্জের নাট্যকর্মীরা বলছেন, মঞ্চের অভাবে জেলাটিতে ব্যাহত হচ্ছে নাট্যচর্চা। নাট্যকর্মীদের আধুনিক একটি মঞ্চের দাবি দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন তারা।

নাট্যকর্মীরা বলছেন, জেলাটিতে শহরকেন্দ্রিক নাট্যচর্চার ইতিহাস দীর্ঘ বছরের। মুক্তিযুদ্ধের আগে শহরের জগধাত্রীপাড়া নাট মন্দির, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের আশুতোষ হল ও দর্পণা সিনেমা হল, ছবিঘর সিনেমা হলে নাটক মঞ্চায়ন হতো। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করেও নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে সে সময়ে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা শুরু হয়। সে সময় প্রবাহ নাট্যগোষ্ঠী, অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং সৌখিন নাট্যচক্র এই তিনটি সংগঠন মূল ধারার নাট্যচর্চার পথপ্রদর্শক হিসেবে খ্যাত ছিল। পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জ থিয়েটার, থিয়েটার সার্কেল, সঞ্চালক নাট্যচর্চাকেন্দ্র ও হিরণ কিরণ থিয়েটার নাট্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

হিরণ কিরণ থিয়েটারের সভাপতি নাট্যকার জাহাঙ্গীর হোসেন ঢালী বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এরমধ্যে দুই-তিনটি দলের কার্যক্রম চলছে। অন্যগুলোর কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নয়।

জেলার নাট্য সংগঠনগুলো সচল থাকলেও মঞ্চের অভাবে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে নাটক মঞ্চায়ন করতে গেলে লাইট, সাউন্ড ভাড়া করে আনতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় নাটক মঞ্চায়ন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে নাট্য দলগুলো।

জানা গেছে, বিশ্ব নাট্য দিবসের প্রবর্তন হয় ১৯৬১ সালে। ২৭ মার্চকে বিশ্ব নাট্য দিবস বা থিয়েটার দিবস বলা হয়। বাংলাদেশে এই দিবস পালন শুরু হয় ১৯৮২ সাল থেকে।

নাট্যকার শিশির রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে ৬২টি, গ্রুপ ফেডারেশনভুক্ত আছে চারটি ও গ্রুপ ফেডারেশনের বাইরে আরও চারটি রয়েছে। থিয়েটার দিবসে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক, গান, গল্প, কবিতা, আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয়। আমাদের এখানে পৃষ্ঠপোষক কম। একটি নাটক করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, তা সংগ্রহ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা বিত্তবানরা যদি শিল্প-সংস্কৃতির দিকে নজর দেয় তাহলে আমরা আরও কিছু করতে পারবো। তবু সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নাট্যচর্চা অব্যাহত রয়েছে। করোনার সময়ে নাট্যচর্চায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তা কাটিয়ে উঠেছে নাট্য দলগুলো। ফিরেছে নিয়মিত নাট্যচর্চায়।

মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে সাংস্কৃতিক ও নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। করোনাকালীন নাট্যচর্চায় কিছুটা ভাটা পড়লেও সেই সংকট কাটিয়ে উঠে এখন শতভাগ সচল নাট্য দলগুলো। পাশাপাশি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিয়মিত কাজ করছে। তবে একটি মঞ্চের অভাব আমাদের নাট্যচর্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

নাট্যমঞ্চ নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা কালচারাল কার্যালয় সূত্র জানায়,  মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চসহ মিলনায়তন সংস্কার কাজ চলছে।

 

সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই

মুন্সীগঞ্জ জেলা অনলাইন ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক, দৈনিক দেশ সেবা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক নতুন দিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মরহুম হাজী ওয়ালী মাহমুদ ইমপ্রেস গ্রুপ (চ্যানেল আই)-এর অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক রিকাবী বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং নগর কসবা পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর চ্যানেল আই মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

হাজী ওয়ালী মাহমুদের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫

মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলার মিরকাদিমে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গেলো শনিবার সন্ধ্যায় মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রবিন বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. কামাল (৫৫), বাদল মিয়া (৪৫), শাহাদাত (৪৭), সুলতান (৬০), শামীম (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন বিভিন্ন সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও অভিযুক্তরা তা মানতে রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রামগোপালপুর এলাকায় রবিনের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সোহান (১০) ও তার ভাবির খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ভাবিকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে চাচাতো ভাই সজীব (৩৫) এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে রবিনের বাবা মো. দুলাল (৫৫) কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ রামগোপালপুর এলাকায় পৌঁছালে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার চিৎকার শুনে চাচাতো ভাই সজীব (৩৫), রজীব (২৭) ও চাচাতো ভাইয়ের শ্যালক আসলাম (১৭) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না। আমরা তাদের ওপর কোনো হামলা করিনি। ঘটনার দিন তারা একজন খানসামার সঙ্গে অনেক লোকজন নিয়ে সেখানে আসে। তখন অনেক মানুষের মধ্যে লাঠির আঘাতে তারাই আহত হয়েছে। আমরাও আহত হয়েছি।’

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, জায়গা-সম্পত্তির বিরোধের বিষয়টি সাধারণত আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে বিষয়টি আমরা দেখব।

2