মুন্সীগঞ্জে পরিচ্ছন্নকর্মীদের বহুতল ভবন হস্তান্তর জুনে
চলমান নৌ-ধর্মঘট নিয়ে দেশের সকল স্তরের নৌযান শ্রমিকদের অবগতির জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তী জারি করে নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশন। শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজী মো:গোলাম কিবরিয়া, সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে ।
জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বিষয়ে কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতি করা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব। নিন্মে সিদ্ধান্ত গুলো:
১.দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়: দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আমাদেরে এই সেবার সাথে জড়িত সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির কথা গভীরভাবে চিন্তা করে আমরা এই মুহূর্তে কোনো প্রকার ধর্মঘট বা কমবিরতিতে না যাওয়ার চুড়ান্ত ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করেছি।
২. স্বাভাবিক কার্যক্ৰম অব্যাহত রাখা: ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেশের কোথাও কোনো ধরনের বন্ধ’ বা ধর্মঘট ডাকা হবে না। সকল নৌপথের নৌযান চলাচল এবং শ্রমিক ভাইদের দৈনন্দিন কর্মতৎপরতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও গতিশীল রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হলো।
৩. স্মারকলিপি প্ৰদান ও পরবর্তী পদক্ষেপ: আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার ও দাবিগুলো থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যত হইনি| দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হওয়ার সাথে সাথেই আমরা আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি সস্বলিত স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো ভাবে পেশ করব।
বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজী মো:গোলাম কিবরিয়া বলেন, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে চরম ধৈর্য, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিকের স্থায়ী অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই কোনো প্রকার উস্কানিতে তাল না মিলিয়ে ধৈর্যের সাথে সকলকে নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমান সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গৃহীত কার্যক্রম মুন্সীগঞ্জেও বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে। বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভা কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি- জাতীয় ও মুন্সীগঞ্জ সংক্রান্ত কার্যক্রম তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে
এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মার্চ মাস থেকে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন নারী সদস্যকে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে। মুন্সীগঞ্জে জুলাই মাস থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ, কৃষিঋণ ও ভর্তুকি ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জে এলজিইডির ৩টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। টঙ্গীবাড়ির মটুপুকুর সিদ্ধেশ্বরী বাজার খালের ৫২ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া গজারিয়া, শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ি ও সিরাজদীখানে বিভিন্ন খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জে আগামী ১৮০ দিনে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন সুবিধা চালুর লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে এসব কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করছে। সার্বিকভাবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন কার্যক্রম জনগণের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছাব্বেরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, পিপিএম, জেলা তথ্য অফিসার রহিমা আক্তার, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গুলজার হোসেন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিনিধিগণ।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। তাই বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী উপরোক্ত কথা বলেন।
তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি লাগাতার জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে। আর এসকল প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার মধ্যে থাকলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। রাষ্ট্রের শাসন কার্য স্বচ্ছ হবে। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও অপ-সাংবাদিকতা রুখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার
তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর বড় বাধা নয়, বরং তথ্যের সাথে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যকে বিচিত্র পাত্রে রেখে বিভ্রান্ত করার যে প্রচেষ্টা চলে, তাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।
গণমাধ্যমের চতুর্থ স্তম্ভ ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের অন্যতম। একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য।
অবাধ তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অক্সিজেনের অভাবে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি তথ্যের অভাবে গণতন্ত্র বাঁচে না। কিন্তু সেই তথ্য যদি দূষিত হয়, তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, নৈরাজ্য পূর্ণ সংবাদ মাধ্যমের কারণে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়। সংবাদ মাধ্যম স্বাধীন থাকলে গণতন্ত্র সমৃদ্ধ হয়। জনগণের অধিকার সঠিক তথ্য পাওয়া সংবাদ কর্মীদের সব সময় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের সাথে জড়িত সকল সংগঠনের সাথে কথা বলছি। সংবাদ মাধ্যমের সঠিক নীতিমালা তৈরি করতে পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। টিআরপির নামে কোন সংবাদ মাধ্যম কে সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে না।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহাবুব, ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বাবু। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন।
০৫.০৫.২০২৬