মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৭৬০টি জনবলের মধ্যে ৩৮৪টি পদই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সঙ্কটের ফলে জেলার স্বাস্থ সেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে মোট ৭৬০টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৮০ জন। দীর্ঘদিন ধরে ৩৮৪টি পদ শন্য রয়েছে। ফলে জেলার পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালকের পদে ১ জন মঞ্জুরিপ্রাপ্ত ও কর্মরত থাকলেও সহকারী পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) ও সহকারী পরিচালক (সিসি) পদেও পূর্ণ জনবল রয়েছে। তবে মেডিকেল অফিসার (সিসি) পদটি এখনো সংযোজনের অপেক্ষায়।
এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ৬টি পদের মধ্যে ৩টি শন্য রয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) ১১টি পদের মধ্যে ৭টি শন্য এবং সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার (এমসিএইচ-এফপি) ৬টি পদই শন্য রয়েছে, যেগুলোর জন্য নতুন পদ সংযোজন প্রয়োজন।
অপরদিকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে ৪৯টি অনমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত ১৭ জন, বাকি ৩২টি শন্য এবং আরও ৬টি পদ সংযোজনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ফার্মাসিস্ট পদের ১৪টির মধ্যে ৭টি শন্য এবং অফিস তত্ত্বাবধায়ক ও কোষাধ্যক্ষ পদে মাত্র ১ জন করে কর্মরত আছেন।
এছাড়া প্রশাসনিক সহায়তাকারী পদগুলোতেও ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। সাটমূদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, হিসাবরক্ষক, গুদামরক্ষক, পরিসংখ্যান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য। মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সরাসরি যুক্ত পরিবার কল্যাণ সহকারীর ৩২২টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫১ জন, শূন্য রয়েছে ১৭১টি।
অন্যদিকে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের ৮৯টি পদের মধ্যে ৪৭টি শন্য এবং অফিস সহায়ক, আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী ও সুইপারসহ অন্যান্য পদেও রয়েছে ব্যাপক শূন্যতা। এছাড়া মিডওয়াইফ, গাড়িচালক ও প্রজেকশনিস্ট পদের সংকটও সেবা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট বিদ্যমান থাকলেও এখন পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। দ্রত পদগুলো পূরণ না হলে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য কর্মসূচির গুণগত মান ব্যাহত হবে।
এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কাযার্লয়ের সহকারী পরিচালক চৌধরী মোর্শেদ আলম জানান, জেলায় যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা, সেই তলনায় বর্তমানে ৫১ শতাংশ জনবল শন্য রয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অদূর ভবিষ্যতে যদি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তাহলে জনবল সংকট দূর হবে এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।