মেঘনায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নৌ-ডাকাত বাবলা নিহত
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে ৩৭ মামলার পলাতক আসামী এবং পদ্মা ও মেঘনা নদীপথের আতঙ্ক নৌ-ডাকাত বাবলা বাহিনীর প্রধান উজ্জল খালাসী ওরফে বাবলা (৪২) নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়নের মল্লিকের চরে প্রতিপক্ষ নৌ-ডাকাত নয়ন গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নৌ-ডাকাত বাবলা নিহত হয়। নিহত উজ্জ্বল খালাসী ওরফে বাবলা চাঁদপুরের উত্তর মতলব এলাকার বাচ্চু খালাসীর ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নৌ- ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে তার মৃতুর খবরে উল্লাস করছে গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ সদরের আধারা ইউনিয়নের কালিরচরসহ আশপাশ গ্রামের লোকজন। এছাড়া বাবলার গুলিতে নিহত ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়াজীর পরিবারে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন উজ্জ্বল হত্যা মামলার বাদী কিবরিয়া মিয়াজী।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে মল্লিকের চর এলাকায় নৌ-ডাকাত নয়ন ও বাবলা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবলার। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত বাবলার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, নিহত বাবলার নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে বিভিন্ন সময় নৌ-ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র নৌ-ডাকাত বাহিনীর মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনে পাহারা থেকে শুরু করে, অস্ত্রের মহড়ায় নৌপথে ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছিলেন নিহত বাবলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও মেঘনা নদীপথের আতঙ্ক নিহত নৌ-ডাকাত বাবলা ওরফে উজ্জ্বল খালাসির নামে হত্যা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে চাঁদপুর থানায় ৮টি, মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ২২টি, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৪টি ও শরীয়তপুরে ৩টিসহ মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে।
