লৌহজংয়ে কৃষি জমি মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের বৌলতলী ইউনিয়নের মাইজগাঁও ও খিদিরপাড়া গ্রাম সংলগ্ন কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে মাটি কেটে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। দীর্ঘদিন ধরে সোশাল ইসলামী ব্যাংকে মর্গেজ রাখা জমিতে ড্রেজিং করে আসছেন নূরে আলম সারেঙ্গ ও তার সহযোগীরা। অপরিকল্পিত ভাবে মাটি কাটায় হুমকিতে পড়েছে পাশে থাকা অপর তিন ফসলী কৃষি জমিগুলো।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় চলতো ড্রেজিং কার্যক্রম। যা বর্তমানে একই কায়দায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ছাত্রছায়ায় ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন ওই ড্রেজার ব্যবসায়ী। এ অবস্থায় অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় কৃষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লৌহজংয়ের মাইজগাঁও ও খিদির পাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জমির মাঝে স্যালো ইঞ্জিনচালিত ১টি কাটার ড্রেজারের মাধ্যমে সোশাল ইসলামী ব্যাংক ঢাকার ইসলামপুর শাখায় মর্গেজ রাখা কৃষি জমির মাটি উত্তোলন করছেন নুরে আলম সারেঙ্গ নামের ড্রেজার ব্যবসায়ী। বর্ষার পানিতে কৃষি জমি গুলো ডুবে থাকার সুযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির কৃষি জমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কেটে নিচ্ছে। এক জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে শ্রেনী পরিবর্তন না করো অপর কৃষি জমি ভরাট করছেন। অপরিকল্পিত ভরাটের কারনে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে জ্বলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ড্রেজার ব্যবসায়ী নুরে আলম সারেঙ্গ অপরিকল্পিত ভাবে জমির মাটি কাটায় পাশের কৃষি জমিগুলোতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি জমি রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষি জমির মালিকরা জানান, বিগত শেখ হাসিনা সরকার আমল থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কেটে নিচ্ছেন নুরে আলম সারেঙ্গ নামের প্রভাবশালী ড্রেজার ব্যবসায়ী। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেল্টার দিয়েছে আর এখন একই কায়দায় শেল্টার দিচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদ করলে মামলা ও হামলার হুমকি দেয় তারা। ফলে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।
খিদিরপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে এই গ্রামের কৃষি জমিতে ড্রেজার চালানো হচ্ছে। বর্তমানে সোশাল ইসলাম ব্যাংকে মর্গেজ রাখা জমির মাটি গভীর করে কেটে ফেলায় পাশের কৃষি জমিগুলো ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় দ্রুত এই মাটিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ড্রেজিং বন্ধের দাবি জানান তিনি। তার মতো একাধিক কৃষকেরও একই দাবী বলে কৃষকরা জানিয়েছে।
জানতে চাইলে কৃষি জমিতে ড্রেজার স্থাপনের কথা স্বীকার করে ড্রেজার ব্যবসায়ী নুরে আলম সারেঙ্গ বলেন, ড্রেজার লাগিয়েছি কিন্তু বর্তমানে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
