মুন্সীগঞ্জে বিএনপির ১১৫ নেতাকর্মী মামলা থেকে অব্যাহতি
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাশকতার মামলা থেকে শ্রীনগর উপজেলার ১১৫জন বিএনপি নেতাকর্মীকে খালাস দিয়েছে আদালত। রোববার দুপুর ১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জশিতা ইসলাম উভয়পক্ষের আইনজীবীর শুনানি শেষে আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
২০১৩ সালে শ্রীনগর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদে বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলো। দীর্ঘ ১১বছর বিচারিক কাজ শেষে অবশেষে খালাস পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন সকলে। এসময় আদালত প্রাঙ্গনে ন্যায় বিচার হয়েছে দাবি করে স্বৈরাচার বিরোধী স্লোগান দেন মুক্তিপ্রাপ্তরা।
আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকারিয়া মোল্লা বলেন, ২০১৫ সালে মামলাটির বিচারকার্য শুরু হয়। পরে আদালত ২১ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। যার মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য। মামলার বাদীও তারা। রোববার ছিলো মামলার রায় ঘোষণার দিন। এদিন মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনা প্রমাণিত হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ জানান বিচারক এবং শেষে সকল আসামিকে অব্যাহতি দেন তিনি। এসময় ১১৫ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আসামী পক্ষের আরও এক আইনজীবি মাহবুব আলম স্বপন বলেন, ২০১৩ সালে শ্রীনগর থানায় বিএনপি নেতাকর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে নাশকতার মামলা করা হয়েছে। আসামীরা সবাই এতোদিন নানা ভাবে হয়রানি, নির্যাতন, কারাবরণও করেছে। আজ শুনানি ছিলো, মামলার স্বাক্ষী যাদের করা হয়েছে তারা কেউ নাশকতার নিদিষ্ট অভিযোগ করতে পারেনি। আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবিদের কথা শুনে মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগোর সত্যতা না পাওয়ায় আজ সবাইকে বেকুসুর খালাস দিয়েছে। আমি মনে এতে খালাস প্রাপ্ত সবাই ন্যায় বিচার পেয়েছে।
খালাস পাওয়া শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমিন আলী বলেন, বিএনপিকে বাইরে রেখে আওয়ামীলীগ পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করার প্রতিবাদে সুষ্ঠ নির্বাচনে দাবিতে আমরা ২০১৩ সালে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলাম। সেখানে এসে পুলিশ গুলি করে, লাঠিচার্জ করে আমাদের উপর। পরে আবার পুলিশ বাদী হয়েই আমাদের আসামী করে মিথ্যা মামলা করে। এতোদিন মামলায় বিচারিক কাজ চলছিলো। অবশেষে ১১বছর পর ন্যায়বিচার পেলাম। আমরা চাই এমন সকল মিথ্যা মামলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা মুক্তিপাক।
