গজারিয়ায় সৎ ভাইয়ের ধর্ষণে ছোট বোন অন্তঃসত্ত্বা
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সৎ ভাইয়ের ধর্ষণে ছোট বোন অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দেড় লাখ টাকা জরিমানা। এনিয়ে এলাকায় চলছে গুঞ্জন।
অভিযুক্ত ধর্ষক গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ভাষারচর গ্রামের বাসিন্দা আমানউল্লাহ মুন্সীর ছেলে তুষার মুন্সী (২৪)। ওই কিশোরী আর ধর্ষক একই মায়ের সন্তান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার দুপুরের তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সে সময় তার বাবা আমানউল্লাহ মুন্সীও বাড়িতে ছিলেন না। তবে তুষারের দাদা চাঁন মুন্সী বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে গত এক মাস আগে ওই গ্রামে ওই কিশোরীর নানীর বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে আমি আমার ছেলে ও গ্রামের পাঁচজন উপস্থিত ছিলাম। মাতাব্বরা দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে। সে জরিমানা টাকা গত বুধবার ট্রাম্পে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আমানউল্লাহ মুন্সীর প্রথম স্ত্রী’র সন্তান তুষার। ধর্ষক তুষারের বয়স যখন ৮ থেক ১০ বছর তখন তার বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে তার মা’র অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে হলে সেখানে ওই কিশোরী জন্মে গ্রহন করেন। ওই কিশোরীর মা মারা যাওয়ার পর থেকে নানীর বাড়ি থাকতেন। নানা-নানী ওই কিশোরীকে বিয়ে দিলে বাসর রাতেই স্বামী জানলেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। রাতেই স্থানীয় ভাবে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে স্ত্রীকে তালাক দেয় স্বামী। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ধর্ষকের বাবা আমানউল্লাহ মুন্সী ওই কিশোরীর নানা-নানীকে দেড় লাখ টাকা দেন। এর আগে ২০০০ সালে তুষারের বাবা আমানউল্লাহ একই এলার এক মেয়ে কে ধর্ষণের অভিযোগে দশ শতাংশ জমি ওই মেয়েকে লিখে দিয়ে সমাধান করে বলে জানান স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে কিশোরীর নানী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, আমাদের অজ্ঞাতে তুষার আমার নাতনিকে ধর্ষণ করছে,বর্তমানে সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এদিকে অভিযুক্ত তুষারের বক্তব্য নিতে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে ধর্ষকের বাবা আমানউল্লাহ মুন্সী মুঠো ফোনে বলেন, বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে। আমার ছেলে একটা ভূল করেছে। এটা নিয়ে বারাবাড়ি না করাই ভালো। দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে এমন অপরাধ মিমাংসা করতে পারেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দুই গ্রামের মাতুব্বরা সমাধান করে দিয়েছেন।
