গজারিয়ায় কিশোরের কব্জি বিচ্ছিন্ন করলো প্রতিপক্ষ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় সাব্বির (১৭) নামে এক কিশোরের বাম হাতের কব্জির বৃদ্ধা আঙুলসহ তালু অর্ধেক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সময় আহতের বড় ভাই সাইদুর বাঁধা দিতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার ৬ জনকে আসামী করে গজারিয়া থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন আহত সাব্বিরের বাবা শাহজালাল মিয়া। গজারিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহবুবুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের লস্করদী গ্রামে এ বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাব্বিরের বাবা শাহজালাল মিয়া অভিযোগ করে জানায়, তার সঙ্গে প্রতিবেশি আব্দুর রশিদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে সোহান ইসলামসহ ৫ থেক ৬ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষা গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানী করে। তখন তার ছোট ছেলে সাব্বির এগিয়ে এলে তাকে মাথায় কোপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় মাথার কোপ হাতে ফেরানোর চেষ্টা করলে বাম হাতের কব্জি থেকে বৃদ্ধা আঙুলসহ তালু অর্ধেক বিছিন্ন হয়। এ সময় তার বড় ছেলে সাইদুর এগিয়ে এলে তাকেও হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাদের সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন।
আহত সাব্বিরের মাতা শান্তি বেগম বলেন, আমার ছেলে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দিবো। আমার ছেলেকে যারা অন্যায় ভাবে কুপিয়ে হাত ফালাই দিছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলে এখন পঙ্গু হয়ে গেল। আমার ছেলের হাত ফেরত চাই।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ জানান, তাদের সঙ্গে জমি জমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তারা কাউকে কোপ দিয়ে কব্জি বিচ্ছিন্ন করেনি। তাদের নিজেদের কোপেই কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
গজারিয়া থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
