গজারিয়ায় নির্বাচনে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকের উপর বর্বরোচিত হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে হোসেন্দি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুকে প্রধান আসামিকরে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন হামলার শিকার সাংবাদিক গোলজার হোসেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক গোলজার হোসেন দৈনিক মানবজমিনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি এবং মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজিব খান শুক্রবার সকালে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সংবাদকর্মীর উপর হামলা ন্যাক্কারজনক।হামলা ও মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুলকে প্রধান করে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলার আসামিসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে গত বুধবার গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সেদিনের ঘটনার বর্ণানা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকেরা জানান, গজারিয়া উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আনারস প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থক ছিলেন হোসেন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক তাঁর,বতার ভাই গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইকবাল হক স্বপন, ভাতিজা তানভীর হক ও তাদের লোকজন।
ভোটের দিন সকাল ৯ টার দিকে ইউনিয়নটির ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রভাব বিস্তার করতে কেন্দ্রের বাহিরে জড়ো হচ্ছিলেন। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য সোহেল রানা সবাইকে সরে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান মনিরুল হকের নির্দেশে সোহেলকে মারধর শুরু করেন তাঁর ভাতিজা তানভীর এবং তাদের লোকজন। এ সময় পাশ থেকে ছবি তুলছিলেন ও ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক গোলজার হোসেন।
পরে তাঁরা সোহেলকে রেখে সাংবাদিক গোলজারের ওপর হামলা করেন। তাঁর মুঠোফোন,পকেটে থাকা টাকা, আইডি ও পর্যবেক্ষেক কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মারধর করতে থাকে। পরে অন্য সাংবাদিকেরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে সাংবাদিকেরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁদের অবরুদ্ধ অবস্থায় মারধরের জন্য তেড়ে আসেন মনিরুল হক ও তাঁর লোকজন।
মারধরের ঘটনার পর কেন্দ্রের ভেতরে মনিরুল হক ও তাঁর লোকজন প্রবেশ করার সময় সাংবাদিকদের হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন। সেখানে মনিরুল হক হুংকার দিয়ে বলেন, দুই-চারজন সাংবাদিক মেরে ফেললে কী হবে? ওই দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে মাই টিভির সাংবাদিক ও প্রথম আলোর প্রতিনিধির মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মনিরুল হক। পরে মারধরের শিকার সাংবাদিক গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
