মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। তাই বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী উপরোক্ত কথা বলেন।
তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি লাগাতার জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে। আর এসকল প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার মধ্যে থাকলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। রাষ্ট্রের শাসন কার্য স্বচ্ছ হবে। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও অপ-সাংবাদিকতা রুখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার
তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর বড় বাধা নয়, বরং তথ্যের সাথে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যকে বিচিত্র পাত্রে রেখে বিভ্রান্ত করার যে প্রচেষ্টা চলে, তাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।
গণমাধ্যমের চতুর্থ স্তম্ভ ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের অন্যতম। একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য।
অবাধ তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অক্সিজেনের অভাবে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি তথ্যের অভাবে গণতন্ত্র বাঁচে না। কিন্তু সেই তথ্য যদি দূষিত হয়, তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, নৈরাজ্য পূর্ণ সংবাদ মাধ্যমের কারণে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়। সংবাদ মাধ্যম স্বাধীন থাকলে গণতন্ত্র সমৃদ্ধ হয়। জনগণের অধিকার সঠিক তথ্য পাওয়া সংবাদ কর্মীদের সব সময় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের সাথে জড়িত সকল সংগঠনের সাথে কথা বলছি। সংবাদ মাধ্যমের সঠিক নীতিমালা তৈরি করতে পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। টিআরপির নামে কোন সংবাদ মাধ্যম কে সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে না।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহাবুব, ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বাবু। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন।
০৫.০৫.২০২৬
