মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট
অধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যক্ষের বাধ্যতামুল ছুটিতে আন্দোলন স্থগিত করলো বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
মুন্সীগঞ্জে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহনাজ আকতার ও তার স্বামী সহযোগী অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির চাপের অধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যক্ষের বাধ্যতামূলক ছুটিতে গিয়ে তাদের দায়ীত্ব অত্র প্রতিষ্ঠানের ইনিস্টাক্টর নাজমা আক্তারের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন। এতে স্থগিত করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের একদফা আন্দোলন। তবে তাদের দাবী পুর্ণাঙ্গরুপ না পেলে পরবর্তীতে আবারো আন্দোলনে যাওয়ার নিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
শহরের উপকন্ঠে লোহারপুল এলাকায় স্থাপিত টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে গত বুধবার সারাদিন ব্যাপি অধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যক্ষের পদত্যাগের একদফা দাবীতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। দুর্নিতি, ছাত্র ছাত্রীদের অধিকার বঞ্চিত রাখা, বরাদ্ধকৃত শিক্ষা সামগ্রী আত্মসাৎসহ অধ্যক্ষের যোগসাজশে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে টিটিসি”র ছাত্র ছাত্রীদের হুমকী, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যক্ষের পদত্যাগের একদফা দাবীতে কঠোর আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা।
গত বুধবার সারাদিন ধরেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে উত্তপ্ত ছিল মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়াম, ট্রেনিং কক্ষ, ক্লাস রুম ভবনসহ টিটিসি”র সবর্ত্র।
বিক্ষুব্ধ ছাত্র আন্দোলনের চরম উত্তেজনা মুহুর্তের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে পরে। এ পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষ ও তার স্বামী সহযোগী অধক্ষ্য কম্পাউন্ডে তাদের বাসবভবনে অবরুদ্ধ থাকেন প্রায় ৫ ঘন্টা। এ পরিস্থিতিতে মূল ভবনের প্রধান ফটক খুলতে বাধ্য হয় টিটিসি’র কর্মচারীরা। এখবর ছড়িয়ে পরলে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের এসিল্যান্ড সদর পুলিশও টিটিসিতে আসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে।
সার্বিক পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সকলের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ শাহনাজ আক্তার নিজের মোবাইল থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে অধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যক্ষকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে যাওয়ারসহ তাদের বিরুদ্ধে আনিত ছাত্রদের অভিযোগ তদন্ত করার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটির নির্দশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অধ্যক্ষ তার দাযীত্ব বুঝিয়ে দেন অত্র প্রতিষ্ঠানের ইনিস্টাক্টর নাজমা আক্তারের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ টিটিসি’র অধ্যক্ষ শাহনাজ আকতার বলেন, আমি ছুটিতে গিয়েছি ও তদন্ত কমিটিও হয়েছে। তবে হস্তান্তরিত দায়ীত্ব প্রাপ্তের নিকট অর্থ লেন দেনের ক্ষমতা থাকবেনা। প্রধান কার্যলয় থেকে তদন্ত কমিটি এসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
