খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম:
নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ৫৪৮ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৪৭ অন্তরবর্তী সরকারের সময় থেকে দেশে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘন্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি দুই বছর পেরিয়েছে অধরা অস্ত্রধারীরা, উদ্ধার হয়নি  অস্ত্র মুন্সীগঞ্জে ৪ কেজি গাজাসহ গ্রেফতার এক সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের ইন্তেকাল মুন্সীগঞ্জে অবৈধ ড্রেজারে বালু ভরাটের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা মুন্সীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে মুন্সীগঞ্জে সেমিনার মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক বাবুর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল হলেন মুন্সীগঞ্জের সম্রাট মুন্সীগঞ্জ আদালতের সরকারী আইনজীবীদের তালিকা পরিবর্তন মুন্সীগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মুন্সীগঞ্জে আদালতের রায় উপেক্ষা করে স্থাপনা ভাংচুরের অভিযোগ শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন রোমান আকন্দ মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১২ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশনা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি  মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী  বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল মুন্সীগঞ্জে পরিচ্ছন্নকর্মীদের বহুতল ভবন হস্তান্তর জুনে আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবদল নেতা মনজিল মুন্সীগঞ্জে সামাজিক সংগঠন সহসত্তা’র আত্মপ্রকাশ গজারিয়ায় সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি,থানায় অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে ভাসমান অবস্থায় ১ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

চারণ সাংবাদিক শেখ আলী আকবর মুন্সীগঞ্জের গর্ব

আতিকুর রহমান টিপু
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ১:১৪ অপরাহ্ণ
চারণ সাংবাদিক শেখ আলী আকবর মুন্সীগঞ্জের গর্ব

শেখ আলী আকবর একজন সংগ্রামী মানুষ।।কজন প্রকৃত জীবন যোদ্ধা। দারিদ্র আর কষ্টের ভেতরও যিনি সাধনাকে ছেড়ে কক্ষচ্যুত হননি। জীবনের প্রায় ৬৫টি বছর যার লেখা লেখির ভেতর কেটেছে। কখনো পাখির ডাক আর কখনো ফিঙের ডানা ঝাপটানী তাকে বিমুগ্ধ করেছে। প্রকৃতির সাথে যার আত্মীয়তার বন্ধন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তার ক্ষুরধার কলম চলেছে সমাজ ও প্রকৃতির আমুল পরিবর্তনের তাগিদে। কখনো সারাদিন জোটেনি খাবার। থেকেছেন ভাড়া বাড়িতে কিন্তু লেখা লেখি কখনো থামেনি। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমের আলোতে চলেছে তার লেখনী। যেনো ভিন ধাচের এক কলম যোদ্ধা। কি লিখেছেন তিনি সারা জীবন? গল্প, কবিতা, ছড়া, পুঁথি আর গীতিকবিতা। সাথে সাংবাদিকতাতো আছেই।

সাংবাদিকতা জীবনে প্রায় ১০/১২টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সেই দৈনিক আযাদ, দৈনিক পূর্বদেশ, সমাচার, দৈনিক সবুজ দেশ, থেকে আরম্ভ করে প্রচুর পত্রিকায় কাজ করেছেন শেখ আলী আকবর সাহেব। নিজের মুখেই সবগুলো পত্রিকার কথা বলেছেন তিনি। সেই ফজরের নামাজ শেষ করে আহার না করেই ছুটতেন বাসা থেকে। সাথে একটি ব্যাগ ও পুরনো একটি ক্যামেরা ছিল তার সঙ্গী। কলম রাখতে কখনোই ভুল করতেন না। চলার পথে মনের ভেতর যে আবেগ আসতো তা বন্দী করে নিতেন। প্রকৃতিতে বিমুগ্ধ হয়ে লিখতেন ছড়া। কখনো কবিতা আবার কখনো ক্যামেরায় ক্লিক ক্লিক শব্দে বন্দী করতেন স্থিরচিত্র। তার বাসায় যখন যেতাম দেখতাম বিশাল পান্ডুলিপির । কোনটি কবিতার, কোনটি ছড়ার, কোনটি গীতিকবিতার আবার কোনটি পুঁথির। জিজ্ঞেস করতাম কোনো পান্ডুলিপি ছাপাচ্ছেন না? উত্তরে বলতেন টাকা পয়সা নেই। তাই ছাপানো যাচ্ছেনা। কখনো বলেছেন প্রকাশকরা পয়সা ছাড়া ছাপাবে? মন খারাপ হবার কথা। কিন্তু না, সতেজ ছিলো তার মন, প্রবল ছিল তা মানসিকতা। আশা একদিন তার লেখা অনেকগুলো বই হবে। সেই আশায়ই বুক বাধতেন। তার জীবনের প্রায় ৮০টি বছর কাটিয়েছেন বেশ কটি ভাগে।

কৈশোর কালের কিছু সময় নিজ উপজেলা সিরাজদিখানের কাঁঠালতলী গ্রামে। কিছু সময় চট্টগ্রামে, কিছু সময় রংপুর। বাকী সময় মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশ পাশ এলাকায়। নিজে চয়নিকা নামে একটি সাময়িকী অনেকদিন সম্পাদনা করেছেন। ইমদাদুল হক পলাশ সম্পাদিত মাসিক বিক্রমপুরের ছিলেন নিয়মিত কলম যোদ্ধা। সাপ্তাহিক খোলা কাগজের নির্র্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে বেশ সময় পার করেছেন। নানা সংগঠনের সাথেও ছিলেন সম্পৃৃক্ত। শিশু-কিশোর সংগঠন চাঁদের হাটের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অনেক সময় ধরে। খসনুর আলমগীরের অনুপ্রাসের মুন্সীগঞ্জ জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন আমৃত্যু পর্যন্ত। শেষের দিকে দৈনিক আজকের বসুন্ধরায় জেলার সম্মানজনক দায়িত্বে ছিলেন।

তিনি মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের ৩ বার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার সাথে আমার পরিচয় সম্ভবত ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে। আমি তখন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য। তিনিও সদস্য হয়েছেন। মুখভরা সাদা দাড়ি এবং অনেকটা বয়োঃবৃদ্ধ। বেশ শান্তশিষ্ট ও পরিশ্রমী এবং বিচক্ষণ মনে হলো তাকে। তার সাথে আস্তে আস্তে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ সম্পক নষ্ট হয়নি। আমাকে তিনি শ্বশুর বলে ডাকতেন। এরও একটি কাহিনী রয়েছে।

তিনি যখন ৫ম শ্রেণীতে পড়েন তখন প্রায় সময় পড়া-লেখা বন্ধ করে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতেন। এসব তার পিতা শেখ ওয়াজউদ্দিন ভালো চোখে দেখতেন না। পড়াশুনায় কম নম্বর পেয়ে কাউকে না বলে ভয়ে চলে যান গ্রাম ছেড়ে চট্টগ্রাম। পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি কিছু সময় বেশ কষ্ট করেন। পরে হকারী করেন। কখনো দোকানে কাজ করেন। এর ফাঁকে পড়াশুনা চালিয়ে যান এবং এক সময় পড়াশুনা শেষ করেন। এরই মাঝে চলতে থাকে তার লেখা-লেখি। যাকে একবার লেখা-লেখির নেশায় পেয়ে যায় তাকে ফেরায় কে? তিনি তো বসন্ত ফেরারী। এক সময় রংপুরে বিয়ে করেন। দুটি সন্তানেরও পিতা হন। কিš‘ তার লেখা-লেখির নেশার কারণে কোন কাজেই মন বসেনি। ফলে কমে যায় তার আয় উন্নতি। তীব্র অভাব দেখা দেয় সংসারে। ফলে স্ত্রী তাকে ও তার দুটি সন্তান রেখে সংসার ছাড়েন। তিনি উপায় না পেয়ে চলে আসেন নিজ গ্রামে। এসেই আবার লেখা-লেখিতে সম্পৃক্ত হন।

এরপর চলে আসেন-মুন্সীগঞ্জ শহরে। শহর ও তার আশে-পাশে এলাকার তার জীবনের বাকী সময়গুলো কাটান। একমাত্র লেখা-লেখি ও সাংবাদিকতাকেই নেশা ও পেশা হিসেবে বেছে নেন। প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের প্রায় দেড় দশক পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই বিয়ের উকিল হিসেবে আমাকে রাখেন বিধায় আমি হয়ে যাই উকিল শ্বশুর। মানুষটিকে যতই দেখেছি ততই মুগ্ধ হয়েছি। যখন তার বয়স প্রায় ৭৭ তখনও লিখছেন দিনরাত। পত্রিকায় সংবাদ পাঠাচ্ছেন। চয়নিকা সম্পাদনা করছেন। কিন্তু বয়স তাকে যেনো হার মানাতে পারেনি। যখন তিনি হাটতেন তখন ধীরে ধীরে পা ফেলতেন। অর্থ সংকটের কারণে রিক্সা ও অটোতে চলতেন কম। চলাফেরায় ছিলো তার সতর্ক দৃষ্টি। মানুষ তাকে লেখক যেমন ভাবতো আবার চারণ সাংবাদিক হিসেবেও মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। তার জীবনটা কেটেছে অভাব আর অনটনের সাথে যুদ্ধ করে? এই অকুতোভয় কলম যোদ্ধার সারাজীবনের লেখা-লেখি নাকি তার অর্জন। স্থানীয় পত্রিকা, মাসিক, সাময়িকীসহ নানা জায়গায় তার অসংখ্য লেখা ছাপানো হয়েছে।

তিনি একজন সৎ ও সাহসী কলম যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার মৃত্যুটা ও ছিলো আশ্বর্যজনক। ২৪শে মার্চ ২০২১ সাল। তিনি তার মুন্সীগঞ্জ শহরের ইসলামপুরের ভাড়া বাসা থেকে বিকেল বেলা বের হন। বের হয়ে তিনি সরকারী হরগঙ্গা কলেজের সামনে কাজী বিপ্লবের দোকানের কাছে আসার পর অসুস্থতা বোধ করেন। কয়েকদিন আগ থেকেই তার ঠান্ডাজনিত সমস্যা ছিলো। সংবাদ পেয়ে তাকে সাংবাদিক লিটনসহ বেশ কয়েকজন মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন সময় সন্ধ্যা। ঠিক মাগরিবের আযানের ধ্বনি ভেসে আসছিলো। ঠিক তখন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কলম যোদ্ধা শেখ আলী আকবর সাহেব।

মৃত্যুর ১০/১৫ দিন পর আমি তার সারা জীবনের অর্জন পান্ডুলিপিগুলো সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলাম তার ভাড়া বাসায়। তার স্ত্রী জানালেন ২দিন আগে সব ভাঙারীর কাছে কেজি দরে বেচে দিয়েছেন। মাথায় হাত রাখলাম। অস্বস্তি তাড়া করলো বুঝলামনা কি হলো। তার পরেও নানা পত্রিকায় ম্যাগাজিনে যা ছাপা হয়েছে তা কম নয়। যদি সংগ্রহ করে ছাপা যায় বা কোন হৃদয়বান ব্যক্তি এগিয়ে আসেন তাহলে আলোর মুখ দেখতে পেতো তার নিরলস সাধনা। সিরাজদিখানের কাঁঠালতলী গ্রামের একজন শেখ আলী আকবর কিছুটা হলেও বেঁচে থাকতেন আমাদের মাঝে।

নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ

বিক্রমপুর পোস্ট রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
নাট্যচর্চার আতুরঘর “গনসদন” এখন ধ্বংসস্তূপ

 

মূল ভবনের ভেতরে ময়লার স্তূপ। মেঝেতে পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। বন্য গাছগাছালি ভবনের গা জড়িয়ে আছে। টিনের চালা ভেঙে দেখা যাচ্ছে আকাশ। পিলারের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। মূল ফটকের সামনে দাঁড় করানো মরচেপড়া কয়েকটি গাড়ি। পুরো ভবনজুড়ে পোড়ার ক্ষতচিহ্ন। উপরোক্ত চিত্রগুলো মুন্সীগঞ্জের নাট্যচর্চার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ‘গণসদন’ নাট্যমঞ্চের চিত্র।

 একসময় নাট্যকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হতো শহরের মালপাড়ার এই নাট্যমঞ্চ। এই মিলনায়তনকে কেন্দ্র করেই জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা বেগবান হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মিলনায়তন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে নাট্যচর্চার আঁতুড়ঘর “গণসদন” দেখলে কারোরই বোঝার উপায় নেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সাল থেকে এখানে নাটক হতো, মাসব্যাপী আয়োজন করা হতো নাট্য উৎসবের।

গণসদন মিলনায়তন হলের কাজ চলার সময় থেকেই নাটক মঞ্চায়িত হতে শুরু করে। ১৯৭৭ সাল থেকে সেখানে নাটক, নাট্যোৎসব করা হতো। ১৯৭৯ সালের ৭ জুলাই সেই সময়ের সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘গণসদনথ নাট্যমঞ্চটি উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৭-৯৮ সালে আবার সংস্কার করা হয় হলটিকে। সে সময় মূল ভবনের দুইপাশ দিয়ে বারান্দা তৈরি করা হয়। নির্মাণ করা হয় মেকআপ রুম। জেলা শহরে একমাত্র নাট্যমঞ্চ হিসেবে গণসদন হলটি ব্যবহৃত হয়েছে ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। এক রাতে অগ্নিকাণ্ডে হলটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে নাট্যমঞ্চটি। বিভিন্ন সময় সংস্কারের আশ্বাস পেলেও কোনও কাজ হয়নি।

অন্যদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন মঞ্চের অবস্থাও বেহাল। নাটক মঞ্চায়ন করার মতো পরিস্থিতি শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চেও নেই।

মুন্সীগঞ্জের নাট্যকর্মীরা বলছেন, মঞ্চের অভাবে জেলাটিতে ব্যাহত হচ্ছে নাট্যচর্চা। নাট্যকর্মীদের আধুনিক একটি মঞ্চের দাবি দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন তারা।

নাট্যকর্মীরা বলছেন, জেলাটিতে শহরকেন্দ্রিক নাট্যচর্চার ইতিহাস দীর্ঘ বছরের। মুক্তিযুদ্ধের আগে শহরের জগধাত্রীপাড়া নাট মন্দির, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের আশুতোষ হল ও দর্পণা সিনেমা হল, ছবিঘর সিনেমা হলে নাটক মঞ্চায়ন হতো। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করেও নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে সে সময়ে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা শুরু হয়। সে সময় প্রবাহ নাট্যগোষ্ঠী, অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং সৌখিন নাট্যচক্র এই তিনটি সংগঠন মূল ধারার নাট্যচর্চার পথপ্রদর্শক হিসেবে খ্যাত ছিল। পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জ থিয়েটার, থিয়েটার সার্কেল, সঞ্চালক নাট্যচর্চাকেন্দ্র ও হিরণ কিরণ থিয়েটার নাট্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

হিরণ কিরণ থিয়েটারের সভাপতি নাট্যকার জাহাঙ্গীর হোসেন ঢালী বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এরমধ্যে দুই-তিনটি দলের কার্যক্রম চলছে। অন্যগুলোর কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নয়।

জেলার নাট্য সংগঠনগুলো সচল থাকলেও মঞ্চের অভাবে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে নাটক মঞ্চায়ন করতে গেলে লাইট, সাউন্ড ভাড়া করে আনতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় নাটক মঞ্চায়ন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে নাট্য দলগুলো।

জানা গেছে, বিশ্ব নাট্য দিবসের প্রবর্তন হয় ১৯৬১ সালে। ২৭ মার্চকে বিশ্ব নাট্য দিবস বা থিয়েটার দিবস বলা হয়। বাংলাদেশে এই দিবস পালন শুরু হয় ১৯৮২ সাল থেকে।

নাট্যকার শিশির রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে ৬২টি, গ্রুপ ফেডারেশনভুক্ত আছে চারটি ও গ্রুপ ফেডারেশনের বাইরে আরও চারটি রয়েছে। থিয়েটার দিবসে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক, গান, গল্প, কবিতা, আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয়। আমাদের এখানে পৃষ্ঠপোষক কম। একটি নাটক করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, তা সংগ্রহ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা বিত্তবানরা যদি শিল্প-সংস্কৃতির দিকে নজর দেয় তাহলে আমরা আরও কিছু করতে পারবো। তবু সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নাট্যচর্চা অব্যাহত রয়েছে। করোনার সময়ে নাট্যচর্চায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তা কাটিয়ে উঠেছে নাট্য দলগুলো। ফিরেছে নিয়মিত নাট্যচর্চায়।

মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে সাংস্কৃতিক ও নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। করোনাকালীন নাট্যচর্চায় কিছুটা ভাটা পড়লেও সেই সংকট কাটিয়ে উঠে এখন শতভাগ সচল নাট্য দলগুলো। পাশাপাশি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিয়মিত কাজ করছে। তবে একটি মঞ্চের অভাব আমাদের নাট্যচর্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

নাট্যমঞ্চ নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা কালচারাল কার্যালয় সূত্র জানায়,  মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চসহ মিলনায়তন সংস্কার কাজ চলছে।

 

সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই

মুন্সীগঞ্জ জেলা অনলাইন ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক, দৈনিক দেশ সেবা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক নতুন দিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. লিটন মাহমুদের বাবা হাজী ওয়ালী মাহমুদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মরহুম হাজী ওয়ালী মাহমুদ ইমপ্রেস গ্রুপ (চ্যানেল আই)-এর অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক রিকাবী বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং নগর কসবা পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর চ্যানেল আই মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

হাজী ওয়ালী মাহমুদের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫

মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলার মিরকাদিমে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গেলো শনিবার সন্ধ্যায় মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রবিন বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. কামাল (৫৫), বাদল মিয়া (৪৫), শাহাদাত (৪৭), সুলতান (৬০), শামীম (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন বিভিন্ন সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও অভিযুক্তরা তা মানতে রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রামগোপালপুর এলাকায় রবিনের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সোহান (১০) ও তার ভাবির খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ভাবিকে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে চাচাতো ভাই সজীব (৩৫) এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে রবিনের বাবা মো. দুলাল (৫৫) কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ রামগোপালপুর এলাকায় পৌঁছালে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার চিৎকার শুনে চাচাতো ভাই সজীব (৩৫), রজীব (২৭) ও চাচাতো ভাইয়ের শ্যালক আসলাম (১৭) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না। আমরা তাদের ওপর কোনো হামলা করিনি। ঘটনার দিন তারা একজন খানসামার সঙ্গে অনেক লোকজন নিয়ে সেখানে আসে। তখন অনেক মানুষের মধ্যে লাঠির আঘাতে তারাই আহত হয়েছে। আমরাও আহত হয়েছি।’

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, জায়গা-সম্পত্তির বিরোধের বিষয়টি সাধারণত আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে বিষয়টি আমরা দেখব।

2