মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরশিলমন্দি জসিমনগর এলাকার ছুরিকাঘাত করে আরিফ বেপারী (৩৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামী নুর মোহাম্মদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে প্রধান আসামী নুর মোহাম্মদকে (৩০)। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিভাবে এবং তার সঙ্গে আর কারা উপস্থিত ছিল তাদের নাম-পরিচয়ও
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তুলে ধরে হত্যা সংঘটিত করার বর্ণনা নুর মোহাম্মদ তুলে ধরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান।
মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহত মো. আরিফ বেপারী পৌরসভার পাঁচঘরিয়া এলাকার প্রয়াত মতিন বেপারীর ছেলে। সে মুন্সীরহাট বাজারে কসাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো এবং চরশিলমন্দি জসিমনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার কাছে অপর কসাই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত ১৩ জুন বিকেলে মুন্সীরহাট বাজারে দুই পক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই নুর মোহাম্মদ তার সহযোগীদের নিয়ে আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআই তদন্তে নেমে জানতে পারে, ঘটনার রাতে নুর মোহাম্মদ কৌশলে আরিফকে ডেকে নেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে রেখে আসামীরা পালিয়ে যায়।
পরদিন ১৪ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরশিলমন্দি এলাকার একটি ঘাসের জমিতে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। এরপর পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকা থেকে প্রধান আসামী নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই আকাশকেও আটক করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। বুধবার তাকে মুন্সীগঞ্জের আদালতে হাজির করা হলে নুর মোহাম্মদ আদালতেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
জবানবন্দিতে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেন। নুর মোহাম্মদ ও আকাশ গ্রেপ্তার হলেও অপর আসামীরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে, পিবিআই কর্মকর্তা জানান, আসামীদের গ্রেপ্তার করার স্বার্থে অপর আসামীদের নাম প্রকাশে গোপনীয়তার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
অপরাধ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ । ২:২৩ পূর্বাহ্ণ