মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবকে হত্যা মামলায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১-এর বিচারক নুসরাত শারমীন এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ১ জুলাই চব্বিশের ৪ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় মুন্সীগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হওয়া সজল হত্যা মামলায় ফয়সাল বিপ্লবকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। শুক্রবার ৭ দিনের রিমান্ড শেষে আসামী বিপ্লবকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তের স্বার্থে আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মুন্সিগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল হালীম জানিয়েছেন, সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব ৭ দিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। সে সময় পুলিশের তদন্তাধীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর কথা বলেছে। তাই ছাত্র–জনতার আন্দোলনে ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিভিন্ন বিষয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সজীব দে জানান, ৭ দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবকে আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে থাকা সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৃনাল কান্তি দাসকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের বড় ছেলে এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য।
সদর থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ২০২৪ সালের
৪ আগষ্ট মুন্সীগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রিয়াজুল ফরাজী (২৮), ডিপজল (১৯) ও মো. সজল নিহত ও গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহত হয়। ওই ঘটনায় সদর থানায় ৩টি হত্যা ও ৪টি হত্যার চেষ্টারসহ ৭টি মামলা রুজু করা হয়। প্রতিটিতে মামলায় সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে সজল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ১ জুলাই আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সদর থানা পুলিশ জানায়, ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যায় সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মামলার আসামী ও সাবেক এমপি বিপ্লবকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকার মনিপুরী পাড়ার বাসা থেকে সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে পল্টন থানায় দায়ের করা বিএনপির মহাসমাবেশে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করে ডিবি পুলিশ। এর এক সপ্তাহ পর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিপ্লবকে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫ । ৫:১০ অপরাহ্ণ