নির্মাণের দীর্ঘ ১৭ বছর পর মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু) সংস্কার কাজের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ বছরে একাধিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হলেও মুক্তারপুর সেতু রক্ষনাবেক্ষেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অবশেষে গত বৃহস্পতিবার সেতু কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি সংস্কার করতে চীনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে নির্মিত ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (মুক্তারপুর সেতু) সংস্কার করার প্রয়োজনীতা দেখা দেয়। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জনজীবনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্বস্তি, সময় সাশ্রয় ও সেবা সহজীকরণ করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সেতু বিভাগের সচিব ও সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, জনজীবনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্বস্তি, সময় সাশ্রয় ও সেবা সহজীকরণ করার নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৬ জুন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও চীনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস এবং চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার পক্ষে মহাপরিচালক জহাং গুনবিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় সেতু বিভাগের সচিব ও সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ প্রধান অতিথি ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তা এবং চীনা দূতাবাস ও মুক্তারপুর সেতু সংস্কার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।স্বাক্ষরিত চুক্তিতে চীনের অর্থায়নে মুক্তারপুর সেতুটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ আরও জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু) সংস্কার সম্পন্ন হলে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারবে এবং জনজীবনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তাই সংস্কার কাজের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ এবং গাড়ির চালকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর উপর ১৫২১ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু) নির্মাণ করা হয়। এই সেতু নির্মাণের পর গত ১৭ বছরে সেতুর উপরে ও নিচে একাধিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
সেতুটি সুরক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায়
একের পর দুর্ঘটনায় রেলিং একাধিক খুঁটির নিরাপত্তা দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা বেড়ে যায়।
দীর্ঘ ১৭ বছরে এই সেতুতে টোল আদায় হয়েছে নির্মাণ খরচের কয়েক গুণ বেশি। তারপরও সেতু তদারকি না করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
উল্লেখ্য, বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে ধলেশ্বরী নদীর উপর ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু) নির্মাণ কাজ শুরু করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন সিআরইবিসি। তৎকালীন প্রকল্প ব্যয় ছিল ২০৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এরপর ২০০৮ সালে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়।
সেতুটির স্প্যান সংখ্যা ৩৭ এবং খুঁটির সংখ্যা ৩৬। নৌ চলাচলের জন্য এক খুঁটি থেকে অন্য খুঁটির দূরত্ব ৭৬ দশমিক ২০ মিটার। আর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ান্সে ১৮ দশমিক ২৯ মিটার। সেতুটির নামকরণ করা হয় ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু ( মুক্তারপুর সেতু)।
কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫ । ৮:৪১ অপরাহ্ণ