“দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করছিল আন্তঃ জেলা ডাকাত দল”

কাজী দীপু
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৪ । ৮:৪০ অপরাহ্ণ

গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে আসছে। রোববার রাতে কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আম্ত:জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।

সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভা কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার। এ সময় তিনি বলেন, ঘটনার তারিখ ২৩ অক্টোবর। ঢাকায় স্বর্ণ বিক্রি করে ৪৭ লাখ টাকা নিয়ে নবকলি পরিবহন নামে একটি বাসে রামপ্রসাদ হাওলাদার নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী নবাবগঞ্জ আসছে এমন খবর দেয় চক্রের এক সদস্য। এ খবর পেয়ে ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের সিরাজদীখানের চিত্রকোট ইউনিয়নের মরিচা এলাকায় অবস্থান নেয় ৫ ডাকাত । বিকেল ৪ টার দিকে ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জগামী নবকলি পরিবহনের বাসটি মরিচা এলাকায় পৌছলে পুলিশ পরিচয়ে বাসটির গতিরোধ করে ডাকাতদল । এরপর বাসে থাকা স্বর্ন ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ হাওলাদার মামলার আসামী বলে টেনে হিচরে নামিয়ে নেয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ৪৭ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ন নিয়ে দু’টি মোটরসাইকেলযোগে ৪ ডাকাত পালিয়ে যায়। এ সময় হাবিবুর রহমান নামে তাদের এক সহযোগী ধরা পড়ে যায়। রোববার রাতে গ্রেপ্তারকৃত আম্ত:জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা করেন তারা।

৭ ডাকাতকে গ্রেপ্তার এবং লুন্ঠিত ৭ লাখ টাকা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত ২৩ অক্টোবর সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় সিরাজদীখান থানায় মামলা দায়ের করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ হালদার। এরপরই পুলিশ অভিযানে নামে। এর মধ্যে রোববার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার, লুন্ঠিত নগদ ৭ লাখ টাকা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন- কেরানীগঞ্জের পূর্ব চরাইল এলাকার মৃত ইমরান হোসেনের ছেলে রনি (৪৮), ওয়ারী থানার নবাবুর এলাকার মৃত ইবরাবুল হাসানের ছেলে সিরাজুল হাসান জাবেদ ওরফে রানা (৪২), কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া এলাকার মৃত বাবুর ছেলে শামিম (৪২), সূত্রাপুর থানার নাসিরউদ্দিন সরদার লেন এলাকার মৃত মজিবরের ছেলে সায়মন (৩২), টাঙ্গাইলের তেবাড়ীয়া সলিমাবাদ এলাকার ময়নালের ছেলে মমিন (৪২), মাদারীপুরের পাঁচখোলা এলাকার মোঃ মোতাহারের ছেলে সুজন (৩০), কোতয়ালী থানার চরমাদুপদা এলাকার মৃত আলীউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে সমির হোসেন (৪২)। এছাড়া ঘটনার সময় আটক ডাকাত হাবিবুর রহমান মাদারীপুর জেলার মধ্যমবামন্ধী গ্রামের গেদু ফকিরের ছেলে ।

পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্য রনির বিরুদ্ধে ৩টি, সিরাজুল হাসান জাবেদ ওরফে রানার বিরুদ্ধে ৭টি, সায়মনের বিরুদ্ধে ৪ টি ও সুজনের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। আর ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ হাওলাদার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার হাসনাবাদ গ্রামের মৃত ফালান হাওলাদারের পুত্র । নবাবগঞ্জ বাজারে ‘রামপ্রসাদ স্বর্নালয়’ নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সম্পাদক : কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, প্রকাশক: নাদিম হোসাইন। ফোন : ০১৯৪৪৭৪৪৪৪০ , ই-মেইল : bikrampurpost@gmail.com কপিরাইট © বিক্রমপুর মেইল সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন