মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো.মঞ্জিল মোল্লা নামে এক বিএনপি কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ-১ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক দুই এমপিসহ ১৪২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫০ জন মিলে মোট ২৯৮ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামী করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার পর আহত মঞ্জিল মোল্লা বাদী হয়ে অভিযোগ দাখিল করলে শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে।
সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ মঞ্জিল মোল্লা মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফয়সালসহ ১৪২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫০ জনের নামে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। শুক্রবার সকালে সেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী গুলিবিদ্ধ মঞ্জিল মোল্লা (৫৩) মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার ইব্রাহীম মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গত ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের সুপার মার্কেটে আন্দোলনের সময় পিঠ, হাত ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন মঞ্জিল মোল্লা। এতে তার খাদ্যনালী ঝাঝড়া হওয়াসহ বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক পায়খানার রাস্তা। বর্তমানে তার দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে। এ অবস্থায় ১০ সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যায় নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। দুই দফা অপারেশনে প্রাণ বাঁচলেও অর্থ সংকটে চিকিৎসা বন্ধ রেখেছে। তাই তার পূর্ণাঙ্গ ব্যায় বহন ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
আহত মঞ্জিল মোল্লা বলেন,‘আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে আমিও অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আমার শরীরে ৩টি গুলি লাগে। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কোনমতে আমার প্রাণটা বেঁচে গেছে। যে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আমার উপর গুলি ছুড়েছে আমি তাদের বিচার চাই।থ
আহত মঞ্জিল মোল্লার বড় মেয়ে রুপা আক্তার বলেন,‘আমার বাবার পরবর্তী অপারেশনের জন্য ২-৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই ব্যায় মিটানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সরকারিভাবে বহন করা হবে কি না তারও কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। আমার এক ভাই বিবাহিত, সেও বেকার। আমাদের দাদা-দাদীসহ ১০ সদস্যের পরিবার। বাবাই একমাত্র উপার্জন করেন। তার আয়ে সংসার চলে। এভাবে কতদিন চলতে পারবো জানিনা। সরকারের প্রতি আহবান আমাদের পরিবারটির দিকে তারা যেন নজর দেয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেটে এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। খবর পেয়ে প্রতিহতের ঘোষণা দেয় মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লব ও আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীরা। পুলিশও কঠোর অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা শহরের সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিলে তাদের উপর চড়াও হন ফয়সাল বিপ্লব অনুসারীরা। এসময় লাঠিপেটা ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের কৃষি ব্যাংক এলাকায় উত্তর ইসলামপুর থেকে শত শত আন্দোলনকারী বেড়িয়ে পড়েন। তারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০২৪ । ১১:২৩ অপরাহ্ণ