মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুর পুরনো ফেরিঘাট থেকেআ ধা কিলোমিটার দুরত্বে তেলেরপাম্প পর্যন্ত সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা গংয়ের স্বার্থ রক্ষার্থে নির্মাণাধীন ড্রেনের নকশা তিন দফা পরিবর্তন ও ব্যক্তি মালিকানা জায়গার ওপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণের জন্য পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের অপর প্রান্তে তিন স্থানে মাটি খোঁড়ায় অনিয়মের চিত্র প্রকাশ্যে ফুটে উঠেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সড়ক ও জনপথের জায়গা হলেও জেলা পরিষদ থেকে লীজ নিয়ে মালিকানা দাবী করা আ’লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা গংয়ের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মূলত অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে সওজ’র প্রকৌশলী ও ঠিকাদার। আর ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান ও সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপ না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার বর্তমানে সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের অপর প্রান্তে মাটি খুঁড়িয়ে রাখা দুই স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জ্বলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই স্থানে থাকা ৫টি মার্কেটের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদরের মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট থেকে মুক্তারপুর তেলেরপাম্প পর্যন্ত সড়কের পাশ দিয়ে আধা কিলোমিটার দুরত্বের ড্রেন নির্মাণে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ ৷ ক্লাসিক বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ড্রেন নির্মানের কাজ করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, শুধু অনিয়মই নয়, জেলা পরিষদ থেকে লীজ নেওয়া সরকারি জমিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা গংয়ের মার্কেট নির্মাণের স্বার্থে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের অপর প্রান্তে ড্রেন নির্মাণ করতে তিন দফা মাটি খুঁড়েছে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। আর ড্রেনের নকশা পরিবর্তন করতে গিয়ে একাধিক মার্কেটের সম্মুখ ভাগে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে বড় আকারে খানাখন্দ তৈরী করেছে। বর্তমানে বৃষ্টির পানি জমে ওই স্থান দুটি সরু খালে পরিনত হয়েছে। এর ফলে ৫টি মার্কেটের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট থেকে মুক্তারপুর তেলেরপাম্প পর্যন্ত আধাকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করার সময় একই স্থানে তিন জায়গায় মাটি কাটা হয়েছে। একাধিক মার্কেটের সম্মুখ ভাগ ভেঙে দুই স্থানে মাটি খুঁড়লেও পরবর্তীতে সড়কের পাশ দিয়ে তৃতীয় দফায় খোঁড়া স্থান দিয়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। আর দুই দফা স্থান পরিবর্তন করে ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের মাঝে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা
গংয়ের লীজের জায়গা রক্ষা করতেই মূলত অনিয়মের পথে হেটেছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা ও পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলম মোস্তফা সড়ক ও জনপদের জমি কৌশলে জেলা পরিষদ থেকে লীজ নেওয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ড্রেন নির্মাণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এরপর প্রভাব বিস্তার করে লীজের জায়গা রক্ষার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকে সুবিধা দিয়ে ও চাপে ফেলে উল্লেখিত স্থানের ড্রেনের নকশা পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। আর এ কারনেই পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের অপর প্রান্তে ড্রেন নির্মাণ কাজে তিন স্থানে মাটি খুঁড়ে ঠিকাদার।
অন্যদিকে কাজ শুরুর পর ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশের শর্তাবলী উপেক্ষা করেছে ঠিকাদার। প্রস্থে ৬ ইঞ্চি দুরত্বে ড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও কোথাও ৪ ইঞ্চি, কোথাও ৫ ইঞ্চি প্রস্থ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢালাই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ রড় স্থাপনেও অনিয়ম করেছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছেন।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক বিল্ডার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, সাইদুর রহমান অপু নামে এক ব্যক্তি সাব-ঠিকাদার হয়ো আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই ড্রেন নির্মাণ কাজ করছেন। তিনি কোনো অনিয়ম করেছে কিনা তা তাদের জানা নেই। সাব-ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান অপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মান্নান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল এখানে। তার কথার বাইরে কিছু করা ছিল অসম্ভব, তা সবাই অবগত। আর এ কারনে সড়ক ও জনপদের জায়গা তিনি কৌশলে জেলা পরিষদ থেকে তার সহযোগীদের নামে লীজ নিয়ে
মালিকানা দাবী করেন। এতে ড্রেন নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্থ হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব বিস্তারের কারনেই এক স্থানে তিন দফা মাটি খুঁড়তে বাধ্য হয় ঠিকাদার।
আহমেদ স্বপ্নীল
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০২৪ । ১১:১০ অপরাহ্ণ