২০ লাখ টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষে নৌ-ডাকাত বাবলা নিহত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪ । ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

লুণ্ঠিত মালামালের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুই দল নৌ ডাকাতের মধ্যে সংঘর্ষে নৌ ডাকাত বাবলা নিহত হয়। এ ঘটনার পর গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরের মল্লিকের চরে সংঘর্ষের পর একটি ভবনে দুই কক্ষে আটকে রাখা ৯ ডাকাতসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানান গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।

ওসি আরও বলেন, গজারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল মেঘনা তীরের মল্লিকের চরে সকালে বন্দুক যুদ্ধে গুলিতে বাবলা নিহত হয়। এই সময় গুলিবিদ্ধ রহিম বাদশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আহত গ্রামবাসী আক্তার হোসেন ও লিটন মিয়াজীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত স্পিডবোট জব্দ করা হয়েছ । দুর্গম এলাকা মল্লিকের চরকেও আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতো নৌ-ডাকাতরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ডাকাতি করা অর্থ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে গুলির খোসা ও নগদ ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় আলমগীর হোসেন জানান, গ্রামটির রহিম বাদশার দ্বিতল ভবনে এই সংঘর্ষ হয়। গুলির শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে আসলে দুটি ট্রলারে করে দুই দল সশস্ত্র ডাকাত দ্রুতগতির নৌযান করে পালিয়ে যায়। এ সময় ভবনটিতে থাকা ৯ ডাকাতকে তালাবদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। পরে তালা ভেঙে পুলিশ তদের গ্রেফতার করে। আর পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের মধ্যে ৫ ডাকাতকে উপজেলার হোসেন্দি এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার রাতে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের মল্লিক চর এলাকায় রহিম বাদশা নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বাড়িতে রাত্তযাপন করছিলেন নিহত বাবলা। মৃত্যুর আগে এ বাড়ি থেকেই বাবলা তার দলবল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নৌ-ডাকাতি, বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। গত এক মাস ধরে উপজেলার কালিরচর ও গুয়াগাছিয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় অপর নৌ-ডাকাত গ্রুপের নয়ন, পিয়াস, রিপন পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বাবলার দ্বন্দ্ব চলছিল। এছাড়াও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বাবলার সঙ্গে তার গ্রুপের রহিম বাদশা ও ইমাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিনদের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সম্পাদক : কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, প্রকাশক: নাদিম হোসাইন। ফোন : ০১৯৪৪৭৪৪৪৪০ , ই-মেইল : bikrampurpost@gmail.com কপিরাইট © বিক্রমপুর মেইল সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন