মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ (মোল্লারচর) এলাকায় মাদকের হটস্পটে পরিনত হয়েছে। এলাকাটি চারদিকে নদী বেষ্টি হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান স্পট মোল্লারচর। কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে রাতে ও দিনে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ মাদক। রাত হলেই বাহিরের লোকদের আনাগোনা বেরে যায়।
এছাড়া মুদি দোকানের নাম করে নদীতে প্রায় ১৮টি ট্রলারে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন মাদক। এসব মাদক বিক্রি করে কিশোর বয়সী যুবক। প্রতিটি ট্রলারে দুই থেকে তিনজন মিলে মুদি দোকানের নাম করে বিক্রি করছে মাদক।
এদিকে নদী পথে ইন্ডিয়া থেকে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে বিদেশি মদ, ফেনসিডিল, কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক আসার প্রধান পথ এখন মোল্লারচর। এসব মাদক বিক্রি চোরাচালানের সাথে ওই এলাকার কয়েকজন ও শহরের কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
কয়েকজন মুদি দোকানী ট্রলার চালকের সাথে কথা হয় বিক্রমপুর পোস্ট এর সাথে তারা জানায়, কয়েক বছর যাবত নদীতে মুদি দোকানের নাম করে ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি হয় নদীতে। মাদকের পাশাপাশি মুদি সদাই বিক্রি করা হয়। তারা জানায় মুদি সদাইয়ের থেকে মাদকে বেশি লাভ হয়। তারা আরও জানায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই দলের নেতারা সিন্ডিকেট তৈরী করে ব্যবসা করতো। এখন বিএনপির কয়েকজন কর্মি সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে, অবৈধ ভাবে নদীতে থাকা জাহাজ থেকে সিমেন্ট, চাল, ডাল, গম, চিনি, ডিজেল, লোহালঙ্কর বিক্রির হিরিক পরেছে। এর আগে আওয়ামীল নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির কর্মিদের দখলে রয়েছে এসব অবৈধ ব্যবসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা জানান, এর আগে এলাকার আওয়ামীলীগের দুইটি পরিবারের হাতে নিয়ন্ত্রণে ছিল ব্যবসাটি একটি মোল্লাপাড়ার অপরটি হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার। দীর্ঘদিন তারা এ ধরনে অবৈধ ব্যবসা করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি বলেন, নদী পথে ইন্ডিয়া থেকে যে সকল জাহাজ প্রতিনিয়ত আসছে ওই সকল জাহাজ থেকে ফেনসিডিল ও বিদেশি মদ উঠা নামা করে। ওইসব মদ দেশের বিভিন্ন ক্লাবে যায়। আমাদের এলাকাটি চারদিকে নদী থাকায় মাদকের প্রধান হটস্পট হিসেবে পরিনত হচ্ছে।
এসব মাদকের কারনে এলাকার বিভিন্ন বয়সীর মানুষ আজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে। এদিকে নদীর পারগুলোতে প্রতিনিয়ত মাদক সেবীদের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। সন্ধ্যা নামলেই মাদকের আসর বসে অন্য এলাকা থেকে আসা যুবকদের।
মাদকের প্রধান স্পট গুলো হলো মোল্লাপাড়া নদীর নদীর পার। কাঠের পোলের সাথে লাডুম শাহ’র বট তলা। তোফা মিয়ার সিড়ি ঘটলা, পুরাতন কবরস্থান, বেদে পট্টি এছাড়া মোবাইল ফোনে বেচাকিনি হয়।
সম্প্রতি বিষাক্ত স্পিরিট পান করে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে বেশি আলোচনায় আসে এক সাথে তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মাদক বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ । ৫:১০ অপরাহ্ণ