মুন্সীগঞ্জে কোটি টাকার তরমুজের হাট

মো. নাজির হোসেন
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪ । ২:০৬ অপরাহ্ণ

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ভোর হতেই শুরু হয় কেনাবেঁচার হাঁকডাক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পাইকারদের আনাগোনা। সন্ধ্যা পর্যন্ত আনাগোনার যবনিকাপাত শেষে বাড়ি ফিরের পাইকাররা। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত মজুদ বটে।

 

তরমুজ বেচাকেনার এমনই এক পাইকারী হাট বসে থাকে জেলা শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুর এলাকার ধলেশ্বরীর তীরে। আর এ হাটে কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন।

 

সোমবার পাইকারী হাটের ১৩ টি আড়ত সরেজমিনে ঘুরে জমাজমাট বেচাকেনার চিত্র দেখা গেছে। ভোরের আলো ফুটতেই পাইকারদের পদচারনা চোখে পড়ে। বেলা ১১ টার দিকে পাইকারদের ভীড়ে মুখর হয়ে উঠে পুরো হাট।

 

ধলেশ্বরী তীরের এ হাটে ট্রলারে ছাড়াও সড়ক পথে ট্রাকে করে তরমুজ আসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। হাটের একেকটি আড়তের সামনে থরে থরে সাঁজানো হয়ে থাকে হাজারো পিস তরমুজ।

 

এরপর ৫০ থেকে ১০০ পিস তরমুজের স্তুপ করে বিক্রির জন্য ডাক দেওয়া হয়। সেখানে অংশ নেন আগত পাইকাররা। এ হাট থেকে পাইকারদের কেনা একেকটি বড় সাইজের তরমুজের দাম পড়ে থাকে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। মাঝারি সাইজের দাম পড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ও ছোট সাইজের একেকটি তরমুজের দাম পড়ে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা।

 

আগতদাররা জানিয়েছেন বরিশাল, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে এ হাটে তরমুজ আসে। তবে এ হাটে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জনপ্রিয় তরমুজের সমারোহ বেশী হয়ে থাকে। প্রতিদিন প্রায় এক লাখ পিস তরমুজ আসে এ হাটে।

 

তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও দেশের ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, দোহার ও গাজীপুর থেকে পাইকাররা এ হাটে তরমজু কিনতে এসে থাকেন।

মুক্তারপুর পাইকারী হাটের মায়ের দোয়া আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. জনি গাজী জানিয়েছেন, তার নিজের আড়তে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির কথা। তার মতোই প্রতিদিনি আড়তে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার তরমজু বিক্রি হয়ে থাকে। কাজেই সব গুলে আড়ত মিলিয়ে এ হাটে কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়।

 

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীর কৃষক গোবিন্দ চন্দ্র দাস জানান, সবে মাত্র জমি থেকে তরমুজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। তাই মৌসুমের শুরুতে বিশেষ করে রোজায় চাহিদা বেশী থাকায় দাম একটু বেশী। তিনি বলেন, এবছর চারা আবাদের পরপরই ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ২৫ ভাগের মতো চারা গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া তরমুজ আনতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে। শ্রমিক সার সবকিছুর দাম বেশি থাকায় আমাদের এ বছর প্রতিটি তরমুজ উৎপাদনে খরচ বেশী পড়েছে। তবে এখন দাম বেশী হলেও সামনের দিকে দাম কমে যাবে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও বাজারের পাইকার বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি  সপ্তাহে দু’বার এ হাটে কিনতে আসি। এখানে প্রচুর পরিমাণে তরমুজ উঠে। সারাদিনই তরমুজ পাওয়া যায়। সব সাইজের তরমুজ এখানে পাওয়া যায়। তাই দুর-দূরান্তের পাইকাররা এখানে ছুটে এসে থাকেন। পসন্দ অনুযায়ী তরমুজ কেনার উপযুক্ত এ হাট।

সম্পাদক : কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, প্রকাশক: নাদিম হোসাইন। ফোন : ০১৯৪৪৭৪৪৪৪০ , ই-মেইল : bikrampurpost@gmail.com কপিরাইট © বিক্রমপুর মেইল সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন