মুন্সীগঞ্জে ছেলে হত্যার দায়ে মা-বাবার যাবজ্জীবন কারাদন্ড

মো. নাজির হোসেন
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ মার্চ, ২০২৪ । ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ছেলেকে হত্যার দায়ে মা ও বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে একই মামলার ২০১ ধারায় আরও ৫ বছরের সশ্রম করাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৫ মাসের বিনাশ্রম করাদান্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার  দুপুর পোনে ১ টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোতাহারাত আখতার ভুইয়া রায় ঘোষনা করেন।
আসামীরা হলেন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি গ্রামের মো. লোকমান শিকদারের ছেলে শামিম শিকদার (৪০) ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩৮)। আসামী শামিম শিকদার গ্রেফতারের পর হতেই কারাগারে রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোজাফ্ফর আলী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে গজারিয়া থানাধীন হোসেন্দী ইউনিয়নের বাজার হোসেন্দী (শেখেরবাড়ি) সাকিনস্থ বাদীর বাড়ির পিছনে ডোবায় বাদীর ভাই মো. হাসান (২০) এর অর্ধগলিত লাশ ভেসে ওঠে। এ সময় বাদী সহ অন্যান্যরা লাশ দেখে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত ১০ ঘটিকার সময় বাদী সহ তার পরিবারের লোকজন রাতের খাবার শেষে বাবা-মা, ছোট বোন ঘরে ঘুমিয়ে পরে এবং আমার ভাই হাসান একা পার্শ্ববর্তী তাহার বসত ঘরে ঘুমায়। একই রাত ৩ টার সময়ে বাদীর ছোট বোন শিলা প্রসাব করিতে ঘরের বাহিরে গেলে বাদীর ভাই হাসান তাহাকে ডাক দিয়ে বসত ঘরে নেয়। বাদীর ভাই বোনকে চেপে ধরিলে বোন চিৎকার দেয়। বোনের চিৎকার শুনে বাদীর বাবা-মা উক্ত ঘরে যায়। এ সময় বাদী ও তাহাদের পিছনে পিছনে যায় এবং ঘটনা দেখে।
বাবা-মা, বোন মিলে বাদীর ভাইকে খাটের উপর শোয়াইয়া বাদীর বাবা বালিশ দিয়ে ছেলে হাসানের মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে। এ সময় হাসানের মা পা চেপে ধরে। হাসানের বোন চাকু দ্ধারা হাসানের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এ সময় মৃত্যু নিশ্চিত করিরে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পিছনে ডোবায় কচুরীপানার নিচে লুকাইয়া রাখে। পরে হাসান যে গামছা ব্যবহার করত তাহাতে রক্ত মাখা যাহা আসামী নাসিমা ধোঁয়ে করিয়া পরিষ্কার করে।
এ ঘটনায় আসামীদের অপর ছেলে মো. হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় গেল ২১ সালের ৯ জানুয়ারী ভাই হত্যার মামলা করলে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে। পরে আসামী শামিম শিকদার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। অপর আসামী মামলা চলাকালিন সময়ে জামিনে মুক্ত থাকিলেও শামীম শিকদার জেল হাজতে রয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
সম্পাদক : কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, প্রকাশক: নাদিম হোসাইন। ফোন : ০১৯৪৪৭৪৪৪৪০ , ই-মেইল : bikrampurpost@gmail.com কপিরাইট © বিক্রমপুর মেইল সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন