মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তিতাস গ্যাসের বৈধ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় কোনো প্রকার নোটিস বা ঘোষণা না দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বৈধ গ্রাহকরা। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গজারিয়া উপজেলায় গ্যাস সরবরাহ একে বারেই বন্ধ করে দেয়। বিশেষ করে বৈধ গ্রাহকরা এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ চালু না করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধসহ বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে গ্রাহকরা।
তিতাস গ্যাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়া উপজেলায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬ ইঞ্চি ও ৮ ইঞ্চি ব্যাসের ১৫০ পিএসআইজি তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। পরে এসব পাইপ লাইনে ১৫০ পিএসআইজি প্রেসার থেকে ৫০ পিএসআইজি প্রেসারে নিয়ে আসা হয়। আর ৫০ পিএসআইজি প্রেসারে আবাসিক সংযোগ নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন দেওয়া যায়। পরে তিতাস গ্যাস কোম্পানি বিতরণ লাইন ও আবাসিক সংযোগের অনুমতি দেন।এরপর গত প্রায় ১০ বছর আগে ভবেরচর, বাউশিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত খরচে তিতাস গ্যাস কোম্পানি ১ ইঞ্চি ও ২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাইন স্থাপন করে দেয়। এদিকে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর হঠাৎ করে সরকার তিতাস গ্যাস সংযোগ অনুমোদন বন্ধ করে দেয়। আর বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় দালালরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নামে জনপ্রতি ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নেয়। আর এসব টাকা কেউ গরু ছাগল বিক্রি করে, কেউ স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে, কেউ জমি বিক্রি করে, আবার কেউ সুদে বা ধার দেনা করে দিয়েছে তাদের। অবৈধভাবে নিজের মতো করে নিম্নমানের পাইপ লাইন স্থাপন করে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। আর এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বৈধ করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। শুধু তাই নয় ঢালাই কারখানা ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। এসব ঢালাই কারখানা ও রেস্টুরেন্টে একাধিকবার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জেল জরিমানা করলেও আবার অবৈধ গ্যাস সংযোগ চালু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে তারা।
এদিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো প্রকার নোটিস বা ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বৈধ গ্রাহক ও অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের ক্ষোভের শেষ নেই। গ্যাসের চুলায় রান্না করতে না পেরে খাবার দোকানগুলোয় ভীড় করছে। আবার কেউ কেউ মাটির ও টিন দিয়ে বানানো চুলায় রান্না করছে। আর অপেক্ষা করছে কখন গ্যাস সরবরাহ চালু হয়। গ্যাস সরবরাহ চালু না করলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহৎ আন্দোলন করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে।
বৈধ গ্রাহকরা জানান, তারা নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছে। কোনো প্রকার নোটিস ছাড়াই হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গত ৬দিন ধরে গ্যাস নেই কিন্তু বিল গুনতে হচ্ছে ঠিকই। এ ছাড়া এলাকার ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও দালালরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ তো প্রশাসনের গ্রাহকদের না। তারপরও প্রশাসনকে বৈধ গ্রাহকরা সহযোগিতা করবে। দ্রুত গ্যাস সংযোগ চালুর জন্য তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাসের মেঘনা আঞ্চলিক বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, গজারিয়ায় বৈধ গ্রাহকের তুলনায় অবৈধ গ্রাহক বেশি হওয়ায় সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে ১১ হাজার আর অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। গত ছয় দিন ধরে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকের ২-৩ বছরের গ্যাস বিল বাকি রয়েছে। তবে বৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী যদি নিশ্চয়তা প্রদান করে গজারিয়ায় কোনো অবৈধ সংযোগ থাকতে দেবে না তাহলে তাদের গ্যাস সংযোগ পুনরায় দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ চিন্তা করবে।
এ ব্যাপারে ভবেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন বলেন, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের কারণে বৈধ গ্রাহকরা কেন হয়রানির শিকার হবে। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বৈধ গ্রাহকরা কেন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ঝগড়া করতে যাবে। জালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিতাস গ্যাস কোম্পানি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিক। আমরা তাদের সহযোগীতা করবো। আমার বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করছি।
জুয়েল দেওয়ান, গজারিয়া
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪ । ১:২৭ অপরাহ্ণ